রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে হিংসা মুক্ত নির্বাচন করানোই এবার তাঁদের মূল লক্ষ্য বলে কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার আজ জানান। এর জন্য তাঁরা সব রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। রাজ্যে এসআইআরেও তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল, কোন বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, একজনও অবৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে। (এই কাজে তাঁদের কতটা সাফল্য এসেছে তা যদিও এখনও স্পষ্ট নয়।)
গতকাল দিনভর দফায় দফায় ম্যারাথন বৈঠকের পর আজ সাংবাদিক বৈঠক করে এই সব বলেন তিনি। রাজ্যে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষভাবে বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন করায় যে তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তা জানিয়ে দেন। নির্বাচন শুধু না, নির্বাচন পরবর্তী হিংসাও যাতে না হয় সেদিকেও তাঁরা নজর দেবেন।
আজ সাংবাদিক বৈঠকের প্রথমেই জ্ঞানেশ কুমার পরিস্কার জানিয়ে দেন, কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কোথাও কোনও হুমকি, ভয় দেখানোর অভিযোগ এলে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। প্রশাসনকে সম্পুর্ন নিরপেক্ষভাবে কাজ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এই বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দুই সহ নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি ও সুখবীর সিংহ সান্ধু, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ভোটমুখি পাঁচ রাজ্য সফরের পর দিল্লিতে তাঁরা ফেরার পর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার কথা। বাকি চার রাজ্য সফরের পর এখানে তাঁরা এসেছেন। যদিও এসআইআরে যে বিপুল সংখ্যক নাম বিবেচনাধীন আছে, যাঁদের নাম বাদ গেছে, তার সঠিক নিষ্পত্তি না হলে কিভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন আছে। নির্বাচন কমিশন মনে করেন, এর নিষ্পত্তির জন্য এখনও যথেষ্ট সময় আছে।
কমিশনের ফুল বেঞ্চের এই সফর চলাকালীন দিল্লিতে সিইসি-র অপসারণ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা চলছে৷ শীর্ষ আদালতে এই রাজ্যের এসআইআর নিয়ে আজ শুনানিও হয়।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমার আজ আরও জানান, রাজ্যে ৮০, হাজারের বেশি বুথ। প্রতি বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার হবে না।
সব বুথে ১০০% ওয়েব কাস্টিং, ভোটার সহায়তা কেন্দ্র থাকবে।
এবার ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে বলে জানান জ্ঞানেশ কুমার।
নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করতে কলেজে কলেজেও প্রচার করবে কমিশন। তাঁদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে সব বিধানসভা এলাকায় বিশেষ আধিকারিকদের দায়িত্ব ও দেওয়া হবে৷
প্রবীণ ভোটারদের সুবিধার জন্য সব বুথ একতলা করা ছাড়া হুইলচেয়ার, র্যাম্পের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ৮৫ বছরের বেশি বয়েসি ভোটার চাইলে তাঁর বাড়ি থেকে ও ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করবে কমিশন।
সিইসি আরও জানান, এবার প্রতি দু ঘন্টা অন্তর ভোটের হার জানানো হবে। অ্যাপে সব তথ্যই থাকবে।
ভোট দিতে গেলে মোবাইল বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ও বসিয়ে রাখা চলবে না বলে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

Be the first to comment