রোজদিন ডেস্ক : মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। আজ সকালেই শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, কমিশন চাইলে সিবিআই, এনআইএ-কে তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। নির্বাচন কমিশন এনআইএ-কে এই ভয়ংকর ঘটনার তদন্ত ভার দিলো। শীর্ষ আদালত ৬ এপ্রিল প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে বলেছে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সিইসি জ্ঞানেশ কুমার আজ রাজ্যের সিইও, পুলিশ, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, মালদহের এসপি অনুপম সিংহ-র ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি।
এই ঘটনা শোনা মাত্র কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। কলকাতায় সিইও দফতরের সামনেই বা এত গোলমাল কিসের তিনি জানতে চান।
সূত্রের খবর, মালদার এসপি অনুপম সিংহ-কে ব্যবস্থা নিতে কমিশন সময়ও বেঁধে দেয়। আজ রাত বারটার মধ্যে এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়।
বৈঠকে এসপি কেন ঘটনাস্থলে যাননি জানতে চান সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। উত্তরে এসপি জানান, অতিরিক্ত এসপি ওখানে গেছিলেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মত দক্ষ অফিসার থাকতেও কি করে এমন হল এই কথাও জানতে চান তিনি।
মালদার ডিএম-কে কাল যোগাযোগই করা যায়নি কেন, এই প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমার জানতে চান, তিনি কোথায় ছিলেন?
কালিয়াচকের গতকালের ঘটনায় যে রাজ্যের মুখ পুড়েছে এই কথা ঘনিষ্ঠ মহলে স্বীকার করেছেন সব মহলই। নির্বাচনের যখন আর এক মাসও বাকি নেই তখন শীর্ষ আদালত আজ জানান, এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বাল এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে জয়মাল্য বাগচি, বিপুল পাঞ্চলির বেঞ্চ কার্যত রাজ্যের কোন কথাই শুনতে চাননি।
আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র পেশ করতে যাওয়া নিয়েও ধুন্ধুমার বাধে। টিএমসি কর্মী সমর্থকরা সমানেই তাঁদের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করা, কালো পতাকা প্রদর্শন, এমনকি আক্রমণ করার অভিযোগও ওঠে।
এই নিয়েও সিইসি ক্ষোভ ব্যক্ত করেন বলে প্রকাশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে তিনি বলেন, আইপিএস আধিকারিক হয়ে তিনি কলকাতা সামলাতে পারছেন না!!
উল্লেখ্য, এসআইআরে নাম না থাকায় গতকাল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর ইত্যাদি এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
যা নিয়ে আজ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শীর্ষ আদালত।
আজও মালদা, জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তুমুল বিক্ষোভ হয়।

Be the first to comment