রোজদিন ডেস্ক : মালদার কালিয়াচক, মোথাবাড়ির গত সপ্তাহের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত এনআই-কে তদন্তের নির্দেশ দিলো। কিভাবে গত বুধবার দীর্ঘক্ষণ তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যর বেঞ্চ। আজ রাজ্যকে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা জানিয়ে দেন, রাজ্য ব্যবস্থা না নিলে কি করতে হয় তাঁরা জানেন।
গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় এনআইএ-কে তদন্ত করতে বলেছিল, আজ শীর্ষ আদালতও এসআইআর চলাকালীন মালদার ওই ঘটনার এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওই দিনের ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের দায়ের করা বারটি এফআইআর এনআইএ-কে নিতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আজ এনআইএ-র প্রাথমিক রিপোর্ট পেশের পর রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন তিন বিচারপতি।
আজ শীর্ষ আদালতে এনআইএ-র পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু বলেন, গোলমাল বাধাবার জন্য চব্বিশ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, পাঁচ জনের অপরাধমূলক ইতিহাস আছে, চব্বিশ জন সন্দেহভাজন রাজনৈতিক সদস্য। চারশ বত্রিশ জনকে এই ঘটনায় যুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশ এর তদন্ত করছে, কারণ এনআই আইনে তা পড়ে না।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি তখন জানতে চান, দাঙ্গা কি এনআইআরের আওতায় পড়ে না?
শীর্ষ আদালত রাজ্য পুলিশকে এই ঘটনার তদন্তের সব কাগজ পত্র এনআইএ-কে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি-র পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা বলেন, এই ঘটনার প্রধান দুই মাথা মোফাক্কেরুল ইসলাম ও মৌলানা মহম্মদ শাহজাহান আলি কাদরিকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে, তাঁরা পুলিশ হেফাজতেই আছেন।
শীর্ষ আদালত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে ও তাঁদের এনআইএ কে তুলে দিতে নির্দেশ দেন।
শীর্ষ আদালতে আজ মুখ্যসচিবের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে যেভাবে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা, তাঁদের যাওয়ার পথে তুমুল বাধা সৃষ্টি করা ইত্যাদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল এম পাঞ্চলির বেঞ্চ।
কেন মুখ্যসচিব সেদিন ফোন ধরেননি তা নিয়েও একরাশ ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তাঁরা। এর জন্য কলকাতা উচ্চ আদালতে মুখ্যসচিবকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে এই ঘটনায় ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে আজ কলকাতা উচ্চ আদালতের বার এসোসিয়েশন সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে এই সংগঠন বলে জানা যায়।

Be the first to comment