রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর :
নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের সামনে এল। ঘোষিত প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই প্রবীণ নেতা চঞ্চল বিশ্বাসও একই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার দাবি তুলে মনোনয়ন দাখিল করেন। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রকে ঘিরে বিজেপির অন্দরমহলে অস্বস্তি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল দল ঘোষিত প্রার্থী হিসেবে তারক চট্টোপাধ্যায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে জেলা শাসক দফতরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভও দেখা যায়।
এই অস্থিরতার মাঝেই বুধবার নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা চঞ্চল বিশ্বাস নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দাবি করে একই কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ফলে একই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দুই নেতার মনোনয়ন জমা দেওয়ায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
ঘোষিত প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় বলেন, দল তাঁকে মনোনীত করায় তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে অন্য কেউ মনোনয়ন জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে চঞ্চল বিশ্বাসের বক্তব্য, দল যাকে খুশি প্রার্থী করতে পারে, কিন্তু মাঠের কর্মীরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন না। তাঁর দাবি, কর্মীদের ইচ্ছা ও দলের নির্দেশ মেনেই তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ নয়, বরং বৃহত্তর সাংগঠনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছে। ভোটের আগে এ ধরনের দ্বন্দ্ব দলীয় ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সব মিলিয়ে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির কাছে এখন শুধু একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং দলীয় ঐক্য রক্ষারও পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Be the first to comment