প্রতিবেদন: রাজ্য বিধানসভায় সই জালের অভিযোগে এবার স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তুলেছেন, স্পিকার ঘরে বসে কীভাবে জানলেন বিরোধীদের কোন পক্ষে বেশি বিধায়ক আছেন? এর জন্যে অধিবেশন না ডেকে কিভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত শুরু হতে পারে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, যেদিন বিরোধী দলনেতার নাম পাঠানো হয়েছিল, সেদিন কতগুলো রাজনৈতিক দল সেখানে ছিল, যে বিরোধী দল ছিল তাদের নাম নিশ্চই দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিরোধী দল বিরোধী নেতার নাম দিলে তাকে কি স্পিকার অস্বীকার করতে পারেন? রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, স্পিকারের কাছে নাম এলেও তাঁকে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কারণ এক্ষেত্রে বিরোধী দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এই ক্ষেত্রে তিনি মুম্বইয়ের শিবসেনার উদাহরণও তুলে ধরেন। এজি বলেন, একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, স্পিকার রাবার স্ট্যাম্প হতে পারেন না। এই রাজ্যের ক্ষেত্রে এখানে যে নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাঠানো হয়, তাই নিয়ে বিতর্ক ছিল। তৃণমূলের যে তালিকা পাঠানো হয় সেখানে বিধায়কদের সই ছিল না, ব্লক লেটারে নাম লেখা ছিল। বিচারপতি বলেন, তাহলে কি বিক্ষুব্ধ এমএলএদের প্রস্তাব পাওয়ার জন্য কি স্পিকার ওয়েট করছিলেন? বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, একমাত্র প্রশ্ন, বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব হওয়ার পরেও কি করে স্পিকার সেটা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে চুপ করে বসে থাকলেন? আইনজীবী জানান, ২৭ মে এফআইআর করা হয়। সেইদিনই তদন্ত শুরু। তারই মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক সই করে বিরোধী দলনেতার নামের তালিকা দেন স্পিকারকে। ফের বিচারপতি বলেন, একই দলের দুই পক্ষ যদি দুটো প্রস্তাব দেয় তাহলে স্পিকারের সেই নিয়ে কাজ কি, এই ক্ষেত্রে আইনে কি আছে? তিনি সুয়োমোটো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন কি? স্পিকার নিজের চেম্বারে বসে কি করে জানলেন কোন পক্ষে কতজন আছেন? হাউস না ডেকে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি ক্ষমতা আছে কি? আগামীকাল বুধবার মামলা ফের শুনানি।

Be the first to comment