প্রতিবেদন: ‘আগে তো আমাদের দল থেকে সবাই আপনাদের দলে যাচ্ছিল৷ এখন আপনাদের দল থেকে তারা আবার ওখানে চলে যাচ্ছে।’ এই ভাষাতেই সংসদ চত্বরে বিক্ষোভরত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা। এরপর কল্যাণ তাঁকে কিছু জবাবও দেন। ওখানে দাঁড়িয়ে এভাবেই হাসিমুখে কিছুক্ষণ কথা বলে এগিয়ে যান প্রিয়াঙ্কা। হাসিমুখে কথা বললেও প্রিয়াঙ্কার খোঁচা কতটা হজম করতে পারলেন কল্যাণ সেটাই প্রশ্ন। কল্যাণ আপাতত সংসদের চলতি অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড। অধিবেশনে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। তাই সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়েই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ। তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা ২০ জন ‘বেইমান’দের সদস্য পদ খারিজের দাবিতে সংসদ চত্বরে কার্যত একাই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। এর আগেও তাঁকে এই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার বেলার দিকে আচমকা বিক্ষোভরত কল্যাণের সামনে এসে দাঁড়ান কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। হাসিমুখে কল্যাণের পাশে দাঁড়িয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দেন রাজীব-তনয়া। পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কিছু লোকজন এর আগে আমাদের দল থেকে আপনাদের দলে গিয়েছিল। আবার আপনার দল থেকে এখন আবার ওই দলে যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কার এই হাসিমুখে দেওয়া কটাক্ষ হজম করে কল্যাণ পাল্টা বলেন, এরা তো আমাদের টিকিটে জিতে এসেছে, আপনাদের টিকিটে নয়। প্রিয়াঙ্কা পালটা বলেন, সবই তো কংগ্রেসেই ছিল। কল্যাণ মেনে নিয়ে বলেন, আরে আমিও তো কংগ্রেসে ছিলাম। কিন্তু আপনারা তো আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাড়িয়ে দিলেন। এই কথপোকথনে উঠে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির নামও। তবে এই রাজ্যে তৃণমূল যেভাবে কংগ্রেসকে শেষ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল, তার ফল এখন হাতেনাতে টের পাচ্ছেন মমতা, এমনই মনে করেন রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাই তাদের মনের কথাটাই কি এদিন বলে দিলেন প্রিয়াঙ্কা, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে প্রিয়াঙ্কা কটাক্ষ করলেও ভাই রাহুল কিন্তু কল্যাণকে সাসপেন্ড করার পর তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। সাসপেনশন তোলার জন্য স্পিকারের কাছে দরবারও করেছিলেন তিনি।

Be the first to comment