প্রতিবেদন: নেপালে হড়পা বানের (NEPAL FLASH FLOOD) জেরে এখনও নিখোঁজ এই রাজ্যের অনেক পর্যটক। তাদের খোঁজ চলার পাশাপাশি এবার তাঁদের ফেলে আসা মালপত্র পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হল। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের চিঠিতে সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হল। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে গত ২৬ অগাস্ট নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ‘চলো যাই ট্রাভেল ক্লাব’-এর সঙ্গী ৩২ জন রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের পরিবার নেপালে গিয়ে হাসপাতাল, পুলিশ, আশ্রয় শিবির এবং ভারতীয় দূতাবাসে খোঁজ চালিয়েও প্রিয়জনদের সন্ধান পাননি। সেই আবহেই তাঁদের হোটেলে রেখে যাওয়া মালপত্র দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কৈলাস যাত্রার আগে পর্যটকেরা কাঠমান্ডুর হোটেলে ভারী লাগেজ রেখে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। সেই মালপত্রই এখন তাঁদের পরিবারের কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই ভারতীয় দূতাবাস বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি গোল্ডি শর্মা নেপালের শুল্ক দফতরে একটি চিঠি দেন। তাতে জানানো হয়েছে, ৩২ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ১৯টি ব্যক্তিগত লাগেজ কাঠমান্ডু থেকে সড়কপথে কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে ভ্রমণ সংস্থা। মানবিক কারণে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নেপালে প্রবেশ ও ফেরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শুল্ক ও প্রশাসনিক সহায়তা করার আবেদন জানানো হয়েছে। চিঠিতে গাড়ির নম্বর, চালক, ভ্রমণ সংস্থার প্রতিনিধির নাম এবং কাঠমান্ডু–রক্সৌল–বারাউনি–গোবিন্দঘাট হয়ে কলকাতায় ফেরার সম্ভাব্য রুটের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মালপত্র ভারতে পৌঁছলে তা সংশ্লিষ্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে ভারত ও নেপাল প্রশাসনের যৌথ তল্লাশি অভিযান জারি থাকবে।

Be the first to comment