রোজদিন ডেস্ক: তাঁরা ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। কোন ও ধর্মকে অন্য ধর্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে। ধর্ম্ব নিয়ে মাতামাতি করা সরকারের কাজ নয়।। সরকারের কাজ, শিক্ষা,কর্মসংস্থান, ব্যবসা বাণিজ্য ঠিক চলছে কিনা তা দেখা। রবিবার সিপিএমের যুব সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব সংগঠনের ইনকিলাব সমাবেশে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই কথা বলেন। রাজ্যে বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে তিনি বলেন,শিক্ষা, কাজের ব্যবস্থা না করে ওরা ধর্ম দিয়ে মানুষের লড়াই এ বিভাজনের চেষ্টা করছে। সিপিএমের বই এর স্টলে কি লেখা হবে তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঠিক করে দেবেন? কোন সংবিধান এই অধিকার দেয়?
মহম্মদ সেলিম আরও বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য র ওপর বিজেপি – আর এস এসের রাগ কেন? বাংলায় দুর্ভিক্ষের সময় উনি লিখেছিলেন, “শোন রে মালিক, শোন রে মজুতদার, তোদের প্রাসাদে জমা হলো কত মৃত মানুষের হাড়! হিসাব দিবি কি তার! ”
শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশ আমলে ফজলুল হক সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। আর সুভাষ চন্দ্র বসুর ওপর রাগ! কারণ উনি হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লিগ, ধর্মের নামে দুই রাজনীতিকেই ধিক্কার জানিয়েছিলেন। এখন শ্যামাপ্রসাদ কে নায়ক সাজাতে গিয়ে সুকান্তর ছবিতে জুতোর মালা পরানো হচ্ছে! যারা ভাবছে এই ভাবে রাজ্যের পরিবর্তন করবে, তাদের রাজ্যের মানুষ ই পরিবর্তন করে দেবেন।
দক্ষিণপন্থী, ফ্যাসিস্টরা ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চায় বলে ধিক্কার জানান তিনি। বলেন,ওরা ( বিজেপি) আজাদি শুনলেই রেগে যায়। কবে ইংরেজদের নুন খেয়েছে, এখন ও তার গুণ গাইছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁদের কাছে ইতিহাস মানে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই এর ইতিহাস, আর যারা ব্রিটিশের দালালি করেছিল,তারা সেই ইতিহাস কে অস্বীকার করতে চাইছে। এই সবের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে বলে মহম্মদ সেলিম জানান।
দলের তরুণ জনপ্রিয় নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি সমাবেশে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এ জোরালো প্রস্তুতি নেওয়ার ডাক দেন। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমলে কাজের দাবিতে তাঁদের আন্দোলনে পুলিশের অত্যাচারে মইদুল মিদ্যা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁরা সেদিন ও রাস্তা ছাড়েন নি, আর এখন যে ব্রিটিশের দালালরা আছে, তাদের জন্য রাস্তা ছাড়ার প্রশ্ন ই নেই বলে তিনি তীব্র কন্ঠে জানান।
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন,এরা শারদোৎসব লিখলে বই এর স্টল করতে দেবে না! বই বিক্রি কমলে, মদ বিক্রি বাড়বে। তাই বই বিক্রি করেও লড়াই জারি রাখতে হবে।
এই লড়াই দেশ বাঁচানোর লড়াই বলেন তিনি। রবিবারের এই সমাবেশ থেকে প্রস্তুতি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এর আহবান জানান তিনি।
এই সমাবেশ উপলক্ষে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। বিশিষ্ট নেতা আভাস রায় চৌধুরী বলেন,আজাদি শুনলে এই সরকার রুষ্ট হয়, কারণ আর এস এস স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখেছিল। ঐক্যবদ্ধ লড়াই কে ভাঙার জন্য বিভাজন করেছিল। আর এস এস ই তৃণমূল কে তৈরি করেছিল জানিয়ে আভাস রায় চৌধুরী বলেন,এই রাজ্যে বিজেপি কে তৃণমূল ই সাহায্য করেছে।
সমাবেশে হিমঘ্নরাজ ভট্টাচার্য, ধ্রুবজ্যোতি সাহা, অয়নাংশু সরক্স্র প্রমুখ যুব নেতা বক্তব্য রাখেন। বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার আমজনতার জীবন জীবিকার ওপর আঘাত হানছে।। প্রতিবাদীদের দিমাগি নক্সাল বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দেশের ছাত্র যুব রা সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্য বদ্ধ হচ্ছেন। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ কে ভাগ করে এই সরকার টিকে থাকতে পারবে না বলে জানান তরুণ নেতারা।

Be the first to comment