রোজদিন ডেস্ক: ডেঙ্গির মারণ-কামড়ে রাজ্যজুড়ে ত্রাহি রব, আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ছ’হাজারের গণ্ডি, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এল বর্তমান রাজ্য সরকারের অমানবিক মুখ। যে মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রাস্তায় নেমে মশার লার্ভা খুঁজছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধে লড়াই করছেন, সেই অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদেরই বঞ্চিত করছে সরকার। সোমবার চিৎপুরে ডেঙ্গি প্রতিরোধের এমনই এক প্রচার-নাটকে অংশ নিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন খোদ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রচার সেরে বেরোনোর সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন পুরসভার অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, ডেঙ্গিযোদ্ধা হিসেবে কাজ করা এই স্বাস্থ্যকর্মীদের দৈনিক পারিশ্রমিক মাত্র ৩০৩ টাকা! বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে দিনে এই সামান্য টাকায় কীভাবে একটি সংসার চলতে পারে, তা নিয়ে সরকারের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। নামমাত্র পারিশ্রমিক নিয়েই এদিন মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।
বিক্ষোভের মুখে পড়ে মন্ত্রী স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্যা খতিয়ে দেখার কথা বললেও কৌশলে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। অগ্নিমিত্রা পালও পূর্বতন সরকারের ঘাড়ে ঋণের দায় চাপিয়ে দেন। সেই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার মতো জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পের কথা।
আর এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কর্মীদের প্রশ্ন, অনুদান বা খয়রাতি করার জন্য সরকারের কোষাগারে টাকার অভাব হচ্ছে না, অথচ যে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে শহরের মানুষকে ডেঙ্গির হাত থেকে বাঁচাতে লড়াই করছেন, তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়ার বেলায় সরকারের ভাঁড়ে মা ভবানী?

Be the first to comment