ক্রিপ্টো প্রতারণা মামলায় বড়সড় সাফল্য, মূল চক্রী শামীমকে গ্রেফতার পুলিশের

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক, নদীয়া : 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত প্রতারণার এই মামলায় তদন্তে নেমে কয়েকদিন আগেই ধুবুলিয়া থানার সোনডাঙ্গা এলাকা থেকে নাসিম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা শামীম নামে আরও এক ব্যক্তির সন্ধান পান বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপর তদন্তের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মেলে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় শামীমকে মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে কীভাবে টাকা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেওয়া হত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, প্রতারণার পর অর্থ কোথায় সরানো হয়েছে এবং ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেটগুলির মাধ্যমে আরও কোনও লেনদেন হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আজ শামীমকে কৃষ্ণনগর দায়রা আদালতে পেশ করা হয়।

তদন্তকারীদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে সহজেই ভুয়ো ওয়েবসাইট, প্রতারণামূলক মোবাইল অ্যাপ, ফিশিং লিঙ্ক কিংবা ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত এবং নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি দেখিয়েও অনেক সময় প্রতারণার জাল পাতা হয়।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক কোনও সংস্থার সঙ্গে ক্রিপ্টো লেনদেনের আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনও পরিস্থিতিতেই ক্রিপ্টো ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড, OTP, seed phrase বা private key অন্যের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি হাতছাড়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল সম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে প্রকল্প ও প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে যাচাই-বাছাই এবং প্রতিশ্রুত লাভের দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখা জরুরি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*