রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে তিনি “ভ্যানিস কুমার”-কে নিশানা করেন। তিনি লেখেন, মিস্টার ভ্যানিস কুমার বাংলায় এমন কাণ্ড শুরু করেছেন, যে এসআইআর-এর জাদুকাঠি ঘোরাতেই জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ বলে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে। কোনও যাচাইকৃত তালিকা প্রকাশ না করেই ৯১.৪৬ লক্ষ ভোটারকে হঠাৎ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ নামে এক মনগড়া তকমা লাগিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।
নাগরিক হিসেবে নয়, বরং সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁদের ধরা হচ্ছে। এই সংখ্যাটি আগে বলা হয়েছিল ১.৩৬ কোটি, পরে তা কমানো হয়েছে, কারণ নির্বাচন কমিশনের কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নেই, দিশা নেই, স্পষ্টতাও নেই। তারা কেবল বিজেপির নির্দেশ পালন করছে।
এর আগে তৃণমূল কমিশনের ১. ৩৬ কোটির তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার রাতে কমিশন জানিয়ে দেয় তা কমে প্রায় ৯৪ লক্ষে নেমে এসেছে। এরপরই কমিশনকে তোপ দাগলেন অভিষেক।
এরপর আলিপুরদুয়ারের প্রসঙ্গ টেনে ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ২০২১ ও ২০২৪ সালে বিজেপি সবদিক থেকে আলিপুরদুয়ারের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেছে, আর ব্যালট গোনা শেষ হতেই সেই প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে গেছে। এরপর এসেছে বিশ্বাসভঙ্গ ও পলায়নপর্ব। আজ আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা-বাগানে আমি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছি এবং আশ্বাস দিয়েছি—আমরা তাঁদের পাশে আছি। বাসস্থান, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, রাস্তা, পরিকাঠামো, দুর্যোগ ত্রাণ—অথবা ন্যায্য দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিই হোক—আমাদের মা-মাটি-মানুষ সরকার কখনও ব্যর্থ হয়নি। কিন্তু আজ আলিপুরদুয়ারের মানুষ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তাঁদের বুঝতে হবে—কে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদার জন্য কাজ করে, আর কে সেগুলো কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে।
তাঁদের সম্মিলিতভাবে শপথ নিতে হবে— যারা বাংলার গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করতে চায়, আমাদের মানুষের পরিচয় ও প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নিতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করা হবে এবং জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো হবে। যারা এই রাজ্যকে খাটো করতে চায়, তাদের উত্তর দেবে মানুষই তা দৃঢ় এবং সিদ্ধান্তমূলকভাবেই।

Be the first to comment