রোজদিন ডেস্ক : ছাব্বিশের নির্বাচনে এবার বিজেপিকে পঞ্চাশের নিচে টেনে নামাবো। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমায় এবার জয়ের ব্যবধান বাড়াতে হবে। ৪০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিততে হবে। গত ৫ বছরে মা, মাটি, মানুষ সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে টার্গেট দিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পাথরপ্রতিমা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাব্বিশের প্রচার শুরু করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন কলেজ মাঠে তৃণমূল প্রার্থী সমীর কুমার জানার সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। বলেন, এই নির্বাচন বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন। এই জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হন অভিষেক। বলেন, গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে সবার জন্য পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার কি চারটে ছেলেরও কর্মসংস্থান করতে পেরেছে? বাংলার মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা, আবাসের টাকা, রাস্তার টাকা এমনকি সর্বশিক্ষা মিশন ও পানীয় জলের প্রকল্পের টাকাও গায়ের জোরে আটকে রেখেছে মোদি সরকার। বিজেপিকে ৫০ এর নিচে এবার নামাব। এই নির্বাচন থেকে বিজেপিকে উৎখাত করবো। এদের ভোটের সময়ে দেখা যায়, বাকি সময়ে মানুষের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ থাকে না। শুধু মুখে বড় বড় কথা। জেনে রাখুন, পদ্মফুলে দিলে ছাপ, ঘরে ঢুকবে কেউটে সাপ। পদ্মফুলের কাছ থেকে টাকা নেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন জোড়া ফুলে। বিজেপি হরিয়ানা বা দিল্লিতে জিতলেও বাংলায় তারা জিততে পারবে না। তৃণমূলের আমলে পাথরপ্রতিমায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা যতদিন আছি কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না কেউ। অন্য দল প্রতিশ্রুতি দেয়, আমরা প্রতিজ্ঞা করি। প্রচার শুরু পাথরপ্রতিমায়, শেষ হবে ডায়মন্ডহারবারে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আরো বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল। চতুর্থ বারের জন্য সরকার গড়তে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের ১০ প্রতিজ্ঞা রয়েছে। আমাদের প্রথম প্রতিজ্ঞা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। দ্বিতীয় প্রতিজ্ঞা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সবাইকে পাকা ঘর করে দেবে সে সরকার টাকা দিক আর না দিক। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া আমাদের তৃতীয় প্রতিজ্ঞা। প্রতি ব্লকে সেবাশ্রয় হবে। চতুর্থ প্রতিজ্ঞা, ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল। পঞ্চম প্রতিজ্ঞা, ক্ষমতায় ফিরলে ৫ বছরের মধ্যে সব প্রবীণদের বার্ধক্য ভাতা। তৃণমূল চতুর্থবার ক্ষমতায় এলে ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট আনা হবে। কৃষকদের উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। স্কুল, জেলা গঠন-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারে থাকা বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোর কথাও মনে করিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে, ২০১১ পর্যন্ত পাথরপ্রতিমায় যা কাজ হয়েছে, ১৫ বছরে তার দশগুণ হয়েছে। গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে এখানকার মানুষের অভিযোগ রয়েছে, চতুর্থবার সরকার গড়ার পর অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে। এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে এই জেলাতেই ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু পাথরপ্রতিমা থেকেই রয়েছেন ২ জন। বিজেপির কাছে মানুষের জীবনের কোনও দাম নেই, কিন্তু আমাদের কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য মণিমুক্তোর মতো মূল্যবান।

Be the first to comment