রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- উত্তরকুমার ব্রজবাসী, অঞ্জলী শীলের পর এবার কোচবিহারের মাথাভাঙার বাসিন্দা নিশিকান্ত দাসের কাছে এল অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের এনআরসি নোটিশ। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাঁকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার ভিত্তিতে নথিপত্র নিয়ে অসমেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর নথি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করলেন ৭২ বছরের নিশিকান্ত। তাই বাড়ি ফিরেও চিন্তায় তিনি। এই পরিস্থিতি রাজ্য সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন এই বৃদ্ধ।
নিশিকান্ত দাস জানাচ্ছেন, তাঁরা একশো বছরের বেশি সময় ধরে কোচবিহারের মাথাভাঙার বাসিন্দা। কিন্তু, গত মে মাসে তাঁর কাছে অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের এনআরসি নোটিশ এসে পৌঁছায়। সেই মতো যাবতীয় নথি নিয়ে অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজিরাও দিয়েছিলেন। যেখানে নিজের সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়াও ১৯৫৮ সালের জমির দলিল নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর সেই সব নথি গ্রহণ করা হয়নি।
জানিয়ে দেওয়া হয় ১৯৭১ সালের আগে নিশিকান্ত দাসের বাবা দেবেন্দ্রচন্দ্র দাসের ভোটার তালিকায় থাকা নামের নথি দেখাতে হবে। আর এখানেই বিপাকে পড়েছেন নিশিকান্ত দাস। তিনি জানাচ্ছেন, ৪৫ বছর আগে অর্থাৎ, ১৯৮০ সালে তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। এত পুরনো নথি তিনি কোথায় পাবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল, নিশিকান্তকে কেন এনআরসি নোটিশ পাঠাল অসম ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল? বর্তমানে পেশায় ডিমের ব্যবসায়ী নিশিকান্ত জানাচ্ছেন, ৩০ বছর আগে কর্মসূত্রে সস্ত্রীক অসমের গুয়াহাটিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ছয় মাসের বেশি সময় কাজ করেছেন। তবে, সেই সময় তাঁকে গুয়াহাটি এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ভিআইপি চৌপথি এলাকা থেকে অসম পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে নিয়ে যায়। তবে, যেখানে কাজ করতেন, সেখানকার মালিক গিয়ে নিশিকান্ত দাস বাংলাদেশি নন বলে পুলিশকে জানান।
নিশিকান্ত বলেন, “সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে কোচবিহারে আসি। বাড়ি দলিল নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছিলাম। সেই দলিল দেখে পুলিশ আমাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মেনে নেয় এবং ছেড়েও দেয়। কিন্তু, এতগুলো বছর পর আবার কেন আমাকে নোটিশ পাঠালো, তা জানি না।”
উল্লেখ্য, অসম ট্রাইব্যুনালের তরফে সেরাজ্যের প্রতিটি থানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অতীতে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়েছিল, এমন ব্যক্তিদের এনআরসি নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, তিরিশ বছর আগে যেহেতু নিশিকান্তকে অসম পুলিশ বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছিল, তাই সেই সময় পুলিশের কাছে থাকা নথির ভিত্তিতেই তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
তবে, এই ইস্যুতে রাজনীতির লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। বিষয়টি জানাজানি হতেই, নিশিকান্ত দাসের বাড়িতে শনিবার সকালে হাজির হন কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তিনি বলেন, “বিজেপি বাঙালি বিরোধী। তাই এই ধরনের নোটিশ পাঠিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমরা ওঁর পাশে আছি। গোটা বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাচ্ছি। এসবের বিরুদ্ধে আগামী ২৭ জুলাই অসম-বাংলা সীমানায় অসম সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অহেতুক রাজনীতির অভিযোগ করেছে বিজেপি। এনিয়ে কোচবিহারের বিজেপি জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, “উনি অসমে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তাই হয়তো এই ধরনের নোটিশ পাঠিয়েছে। কাগজপত্র দেখালেই হবে। অযথা তৃণমূল এটা নিয়ে রাজনীতি করছে।”

Be the first to comment