বেলডাঙ্গায় আক্রান্ত মহিলা সাংবাদিক, নিন্দা উদ্বেগ অধীর চৌধুরী, শুভেন্দু অধিকারীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার পরিযায়ী শ্রমিকের ঝাড়খন্ডে অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে আজ এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে তুমুল বিক্ষোভ সহ একের পর এক ঘটনায় উত্তাল এলাকা।
এর মধ্যে খবর সংগ্রহের কাজে গিয়ে মার খান মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি। এক নামী চ্যানেলের প্রতিনিধি হিসাবে দীর্ঘদিন তিনি ওখানে কাজ করেন। আজ পুলিশের সামনেই তাঁকে মারধর করা হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা স্থলে গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্র সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেরে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। সাংবাদিক সোমা মাইতিকে মারের ফলে তাঁর মাথা, পা, হাত সর্বত্র আঘাত লেগেছে৷ মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণায় তিনি ভাল করে কথাও বলতে পারছেন না৷


মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনাকে সমর্থন করছেন না জানিয়ে ও (উত্তেজিত) জনতার মধ্যে যেতে বারণ করেন।
প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী, বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী এর তীব্র নিন্দা করেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বেলডাঙ্গার পরিযায়ী শ্রমিক জালালুদ্দিনের মরদেহ এলাকায় আসতেই মানুষ তুমুল উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সাংবাদিক সোমা মাইতি সেই খবর সংগ্রহ করতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ বাহিনীর সামনেই তাঁকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত সোমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর হাত, পা-এ ব্যান্ডেজ করা হয়। মাথায় যন্ত্রণার জন্য সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর সারা শরীরে ব্যথা। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার কথাও বলেন চিকিৎসকরা।
আজ শিলিগুড়ি যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই ঘটনা তিনি সমর্থন করেন না বলে জানান। তবে এই ধরনের জন বিক্ষোভের মধ্যে যেতে বারণ করেন। তিনি এই সব করাননি, এটি তাঁর হাতে নেই জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুক্রবার জুম্মা বারে এমনিই জমায়েত হয়। মন্দিরে, দুর্গাপূজায়, ভোলে বাবা পার লাগাও এ যখন মানুষ যায়, তিনি কি আটকাতে পারেন? একে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ততা বলে জানান। বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সির মদতে বিজেপি দাঙ্গা লাগাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ এসআইআরের নোটিশ পাচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। তিনি এই সবের তীব্র নিন্দা করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আবেদন জানিয়ে তাঁদের ওপর ভরসা রাখতে বলেন। কোন সাংবাদিকের গায়ে কাউকে হাত না দিতে বলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও সোমা মাইতিকে প্রহারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তিনি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বকে আহত সোমার পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমা ও তাঁর ক্যামেরাম্যানের শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ খবরও নেন তিনি।
প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এর তীব্র নিন্দা করে বলেন, পুলিশের সামনে এই ঘটনা হওয়ায় তা আরও নিন্দনীয়। রাজ্যে স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা না থাকার এটি প্রমাণ।তৃণমূল কংগ্রেসের মদত ছাড়া এই সব হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন।
বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী এর তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন নেই। পুলিশের সামনেই ওঁকে মারা হল, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি মিথ্যা প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে এর থেকে বিরত থাকতে বলেন। রাজ্যকে অশান্তির আগুনে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক রুটি সেঁকা বন্ধ করতে বলেন।

জাতীয় মহিলা কমিশন সদস্য অর্চনা মজুমদার বলেন, রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পুলিশ যখন ফাইল চুরি নিয়ে ব্যস্ত, তখন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের শাসক দল কে নিশানা করে তিনি মহিলা সাংবাদিক কে মারধরে মদত দেওয়ার অভিযোগ করেন।
টিএমসি র বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন চৌধুরী বলেন, পুলিশ নিজেই অসহায়। সাংবাদিকদের আর কি সুরক্ষা দেবে? তিনি সোমা মাইতিকে মারধরের তীব্র নিন্দা করেন৷ এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*