প্রতিবেদন: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরই হোটেল মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দাবি, হোটেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেঁটে গিয়েই আগুন লাগে। তিনি জানান, ভোরবেলা হওয়ায় তখন আবাসিকরা প্রায় সকলেই ঘুমোচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দে
হোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলি সচল করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়েছে। পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে যায় ধোঁয়া। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা আগগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা ছিল। কিন্তু অন্ধকারে সেটা অনেকেই খুঁজে পাননি। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করেন। সেখানেই আগুন লেগেছিল। তখনই অনেকে অগ্নিদগ্ধ হন। এভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জখমও হয়েছেন কমবেশি ২২ জন। তাদের উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার ভোরবেলা তারাপীঠ মন্দিরের খুব কাছেই ‘বিদেশিনী’ নামের ওই হোটেলের একতলার ঘরে আগুন লাগে। হতাহতরা প্রায় সবাই পুজো দিতে তারাপীঠে গিয়েছিলেন। আগুন আপাতত নিয়ন্ত্রনে। উদ্ধারকাজ চলছে। পুলিশ হোটেল মালিক কল্যাণ পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কীভাবে আগুন লাগলো তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ও দমকল বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে আগত পূণ্যার্থীদের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে খবর, তারাপীঠ থানা সংলগ্ন পাঁচতলা হোটেল ‘বিদেশিনী’-তে সোমবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আগুন লাগে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। পাঁচতলা পর্যন্ত ধোঁয়া উঠে যায়। আগুন ছড়ায় মূলত একতলা এবং দোতলায়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। ভিতরে আরও কেউ আটকে আছেন কিনা তা জানার চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিক ছিল কি না, সবরকম নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কিনা, দমকল ও পুলিশ সবদিকই খতিয়ে দেখছে। আবাসিকদের অভিযোগ, পিছনের দিকের একটি দরজা বন্ধ ছিল। তাই অনেকেই বেরোতে পারেননি। দরজা খুলে দিলে অনেকের প্রাণ বেঁচে যেত। সব অভিযোগই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, এখনও কয়েকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। হোটেলে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কিনা, দেখতে হবে। এ ভাবে তো চলতে পারে না। এতগুলো মানুষের জীবনের দায় কে নেবে? এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকা জুড়ে জতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন সব সামনে আসছে।

Be the first to comment