রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে এবার সরকার গড়বে বিজেপিই, আজ ব্যারাকপুরের কর্মী সভা থেকে জোরের সঙ্গে এই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ ও শানালেন৷ আনন্দপুরের সাম্প্রতিক ভয়ংকর অগ্নিকান্ড, দুর্নীতি নিয়ে তোপ দাগলেন। রীতিমত হুঙ্কার দিয়ে ঘোষণা করলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে আনন্দপুর, দুর্নীতির ঘটনায় তদন্ত করিয়ে দোষীদের জেলে পুরবেন। এই সব কান্ডে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিলেন।
তাঁর এই সব হুঙ্কারে খুশি রাজ্যের বিজেপি নেতারা।
এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসাকে যে তাঁরা পাখির চোখ করেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণে তার স্পষ্ট প্রতিফলন, এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক মহল।
ব্যারাকপুরের কর্মী সভায় তীব্র, তীক্ষ্ণ কন্ঠে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর দল, সরকারকে আক্রমণ করেন অমিত শাহ। আনন্দপুরের ঘটনায় রাজ্যের শাসক দল জড়িত বলে আক্রমণ শানান। দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক নেতা মন্ত্রীর নাম নিয়ে আক্রমণ শানান।
আনন্দপুরের মোমো কারখানার মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে গতকালই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আজ একই কথা বললেন অমিত শাহ। দাবি করলেন, ওখানে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ২৫ জন নিহত, এখনও নিখোঁজ ২৭ জন। এর দায় কার? নিহতদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধী নেতা দেখা করতে গেলে কেন বাধা দেওয়া হয়েছিল, প্রশ্ন তুললেন তা নিয়েও।
অমিত শাহ বলেন, এবার তৃণমূল সরকারকে টা-টা বাই বাই করার বছর। তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই সরকারের দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে পাঠাবেন। তীব্র কন্ঠে বলেন, এখানে কাটমানি, ভাইপোর দাদাগিরি, পুলিশের কাজ না করা, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি শিল্প হয়ে গেছে। শিক্ষক নিয়োগ, একশো দিনের কাজ, গরু পাচার, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, দুর্নীতি সবেতেই। দুর্নীতি এখানে সব সীমা পেরিয়ে গেছে। পার্থ চ্যাটার্জি, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মদন মিত্র, চন্দ্রনাথ সিংহ, অনুব্রত মন্ডল, কুন্তল ঘোষ, মানিক ভট্টাচার্য, কুণাল ঘোষ প্রমুখ বহু নেতা মন্ত্রীর নাম করে বলেন, এঁরা সবাই জেলে গেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মমতাদি, সাহস থাকলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে চাইলে এদের টিকিট দেবেন না।
রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়েও সরকার কে তোপ দাগেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, যেখানে বিজেপির সরকার, সেখানে অনুপ্রবেশ হয় না৷ চলতি বছর রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই তাঁরা ৪৩ দিনে সীমানা বন্ধর কাজ করবে৷ রাজ্যের মানুষদের উদ্দেশ্যে তাঁর আর্জি, এখানে লাল, সবুজ সরকার হয়েছে, এবার বিজেপি সরকারকে আনুন, অনুপ্রবেশ ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাবে। এখানে যেভাবে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, এতে সারা দেশের নিরাপত্তাই প্রশ্নের মুখে৷ অনুপ্রবেশকারীরাই মুখ্যমন্ত্রীর ভোট ব্যাঙ্ক বলে তিনি তীব্র কটাক্ষ করেন।
রাজ্যে সর্বত্র সিন্ডিকেট রাজ চলছে, মানুষ ত্রস্ত, বিরক্ত। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের সরকার এসেছে, কেরালার তিরুবন্তপুরমের পুর নিগমও তাঁরা এবার দখল করার কথা গর্বের সঙ্গে জানান তিনি।
আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে ৩৯% ভোট পেয়েছে তাঁদের দল। এবার তা ৫০% হবে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দল ৭৭টি আসন পায়। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী নেতা হন।এবার তাঁদের দলই রাজ্যে সরকার গড়বে বলে দাবি করেন তিনি।

Be the first to comment