রোজদিন ডেস্ক : দীর্ঘদিন দলের কাজে সক্রিয় ছিলেন না তিনি, দলের একাংশই তাঁকে ব্রাত্য করে রেখেছিল। গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের ডাক পাওয়ার পরই ফের স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ। জানিয়ে দিলেন, দল যেভাবে কাজে লাগাবে, সেভাবেই কাজ করবেন তিনি। দীর্ঘদিন পর দলীয় দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে দৃশ্যত আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষের আশা, এবার রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, মমতা ব্যানার্জি কত বছর ধরে লড়াই করতে করতে জিতেছেন!! এবার বিজেপির অন্য আঙ্গিকে লড়াই হবে।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানান, দিলীপ ঘোষকে মাঠ জুড়ে খেলানো হবে।
গতকাল অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ খোলেননি তিনি। আজ জানান, অমিত শাহ বলেছেন, পুরোপুরি কাজে লাগতে হবে। আগামী ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সভাতেও তাঁর উপস্থিত হওয়ার কথা আছে।
একদা তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল দিলীপ ঘোষের। মুখ্যমন্ত্রীর দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনে সস্ত্রীক তিনি যাওয়ার পর তা আরও বাড়ে।
সরাসরি নাম না করে উভয়েই পারস্পরিক তোপ দাগেন। আজ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শমীক ভট্টাচার্য বলেছে দুর্গাপুর যাচ্ছেন, শুভেন্দু অধিকারী বললে যাবেন? উত্তরে দিলীপ বাবু বলেন, যে কেউ (পড়ুন শুভেন্দু অধিকারী) বললেই তিনি যাবেন। আদি অন্ত বলে কিছু নেই। দল পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজ দেয়।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কথায়, দিলীপ ঘোষ কৈশোর থেকে সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে। তিনি এতদিন রণকৌশল তৈরি করছিলেন। তিনি কখন মাঠে নামবেন দলই তা ঠিক করে। উনি একই ভাবে মাঠ জুড়ে খেলবেন। উনি বাড়ি বসে থাকার মানুষ না।
অন্যদিকে দিলীপ ঘোষ বলেন, রাজ্যে বিজেপি ছাড়া কোন রাজনৈতিক বিকল্প নেই।
গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে কালো পতাকা দেখানো হয়েছিল তাঁকে। আজ নাম না করে বিরোধীনেতাকে বিঁধে বলেন, দলের কর্মীরা তাঁকে কোনদিন কালো পতাকা দেখাননি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকে ( শুভেন্দু!) দলে এসেছেন। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছেন। ওঁরা ই এই সব করেছেন। ওঁরা ঠিক করেছেন নাকি ভুল, তিনি বলবেন না। ওঁরা থাকবেন না চলে যাবেন তাও তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কিনা প্রশ্নে জানিয়ে দেন, দল চাইলে তাঁর আপত্তির কোন জায়গা নেই।

Be the first to comment