রোজদিন ডেস্ক : ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি রুখতে নির্বাচন কমিশন এবার বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মীদের কাছ থেকে লিখিত হলফনামা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করছে। কোনও সরকারি কর্মীর নাম দু’টি আলাদা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় রয়েছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতেই এই উদ্যোগ। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মর্মে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের অধীনস্থ কর্মীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে ঘোষণাপত্র বা হলফনামা সংগ্রহ করতে হবে। ঘোষণাপত্রে কর্মীকে জানাতে হবে, তিনি বর্তমানে কোন ঠিকানায় বসবাস করছেন এবং বর্তমান ঠিকানার কোন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, আগে যে বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম ছিল, সেখান থেকে নাম কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। ভোটার তালিকায় একাধিক স্থানে নাম থাকা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কোনও সরকারি কর্মীর নাম যদি আগে কর্মস্থল বা পুরনো বাসস্থানের ভোটার তালিকায় থেকে থাকে, তবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় সেই নাম কাটার জন্য যথাযথ আবেদন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।প্রশাসনিক সূত্রের মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন বিভিন্ন জেলায় দু-জায়গায় নাম থাকার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে বদলি বা স্থানান্তরের কারণে পুরনো ঠিকানার ভোটার তালিকায় নাম থেকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই এবার এই পদ্ধতি নিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, এই ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রয়োজন হলে সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথাও গাফিলতি বা ভুল তথ্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পথও খোলা থাকছে।

Be the first to comment