রোজদিন ডেস্ক : কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীশিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আজ বিকেলে বামফ্রন্টের ইস্তাহার প্রকাশিত হোল। সিপিএমের সদর দফতরে বামফ্রন্ট সভাপতি বিমান বসু তা প্রকাশ করেন। বলেন, একটি জনহিতকারী সরকারের কি কি কর্মসূচি নেওয়া উচিত, এই ইস্তাহারে তা বলা হয়েছে।
রাজ্যের শাসক তৃণমূল ও কেন্দ্রের শাসক বিজেপি র তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজ্যে একটি নৈরাজ্যবাদী সরকার চলছে, দিল্লিতে এমন সরকার, যারা মানুষকে বিভাজিত করছে। ফ্যাসিবাদি কায়দায় মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে।
বামফ্রন্টের ইস্তাহারে কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতি পরিবারে একজন করে স্থায়ী কাজের কথা বলা হয়। পাঁচ বছরে ৪০ লক্ষ স্থায়ী কর্মসংস্থান, ২৫ লক্ষ শিল্প ও লজিস্টিক পরিসেবায় কাজ, ২০ লক্ষ গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও ১৫ লক্ষ প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের কথা বলা হয়। পাঁচ বছরে সরকারের সব সরকারি শুন্যপদ পূরণ, প্রত্যেক নিবন্ধিত বেকারকে অন্তত দুটি চাকরির সুযোগ (কল দেওয়া) দেওয়ার কথা জানানো হয়।
নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আদলে “নেতাজি সুভাষ যুবসেবক প্রকল্প ” চালুর কথা বলা হয়। সেখানে যুব সমাজকে সমাজসেবা, উন্নয়নমুখী ও উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োগ করা হবে। এর জন্য মাসে ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে, কর্মভূমি পোর্টালের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের কাজের সুযোগও দেওয়া হবে।
গ্রামে ও শহরে যথাক্রমে ২০০ দিন ও ১২০ দিনের কাজ ও দিনে ৬০০ টাকা মজুরির কথা ইস্তাহারে বলা হয়েছে। স্বনিযুক্তির জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য বাজেটের ২০% শিক্ষায় বরাদ্দ করা হবে।১০% বরাদ্দ হবে স্বাস্থ্য কর্মসূচি রূপায়ণে। ইস্তাহারে বলা হয় স্বচ্ছতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, পার্শ্ব ও অস্থায়ী শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দেওয়ার কথাও।
প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধূলা, শরীর চর্চা, সংস্কৃতি চর্চা ও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলা হবে।
পাহাড়ে মেডিকেল কলেজ তৈরির কথাও বলা হয়েছে ইস্তাহারে। যৌথ উদ্যোগে নতুন মেডিকেল কলেজ, স্বল্প খরচের বহুমুখী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, ভাতাপ্রাপ্ত সব মহিলাকে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তে নিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আয় বৃদ্ধি র ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে অবৈধ মাইক্রোফিনান্সের হাত থেকে রক্ষা করা হবে। প্রতি জেলায় নারী নিরাপত্তায় পুলিশের নিজস্ব স্বশাসিত অভয়া বাহিনী গঠন করা হবে।
বিমান বসু বলেন, এই সরকারের চালু করা কোন প্রকল্প বন্ধ হবে না, যেখানে দুর্নীতি আছে, সেখানে নতুন করে প্রকল্প রূপায়িত হবে।
এই ছাড়া উত্তরবঙ্গ, পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স, জঙ্গল মহল উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শান্তি, সম্প্রীতি রাজ্যের ঐতিহ্য জানিয়ে ইস্তাহারে বলা হয়, যে কোন মূল্যে তা রক্ষা করা হবে।
এস আই আর নিয়ে আমজনতার হয়রানি, উদ্বেগের শরিক তাঁরাও। কোন বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায় বলে জানান বিমান বসু।
ইস্তাহার প্রকাশে স্বপন ব্যানার্জি, সঞ্জীব চ্যাটার্জি, রাজীব ব্যানার্জি, মিহির বাইন, প্রবীর ঘোষ, আশিস চক্রবর্তী, শ্রীদীপ ভভট্টাচার্য প্রমুখ বামফ্রন্টের বিশিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment