সত্তরের দশকে নকশাল আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা পশ্চিমবঙ্গ। শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক অধ্যায় নয়, বরং এক প্রজন্মের স্বপ্ন, বিভ্রান্তি, প্রতিবাদ এবং রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছিল এই শহর। নকশাল আন্দোলনের আবেগ, আদর্শিক লড়াই এবং তার মর্মান্তিক পরিণতিকে গবেষণার ভিত্তিতে সাহিত্যরূপ দিয়েছে কথাসাহিত্যিক অশোককুমার মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘আটটা নটার সূর্য’। ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাহিত্যিক ভাষায় পুনর্নির্মাণের এই প্রয়াসের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ‘লীলা স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬’-এ সম্মানিত হল উপন্যাসটি। কলকাতার মহাজাতি অ্যানেক্স হলে ‘পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির’ উদ্যোগে আয়োজিত পঞ্চম বর্ষের ‘লীলা স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে লেখকের হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়।

লেখক অশোককুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রথমে একটি বাংলা পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়া এই উপন্যাসে সত্তরের দশকের রাজনৈতিক উন্মাদনা, ছাত্র-যুব সমাজের আদর্শবাদ, রাষ্ট্র ও আন্দোলনের সংঘাত এবং অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে ইতিহাস ও সাহিত্যের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটেছে ।
অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বর্ষের শচীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতাও দেন অশোককুমার মুখোপাধ্যায়, ‘তথ্য-উপন্যাস লেখার চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে। পাশাপাশি ছিল কবি সম্মেলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির কর্নধার ডা. সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা লেখকদের সম্মানিত করার উদ্দেশ্যেই এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আটটা নটার সূর্য’-এর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Be the first to comment