সোমবার রাতে হাইকোর্টের রায়ে নারদ মামলায় জেল হেফাজত হয় রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতার। এঁদের মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক মদন মিত্র তেমনিই রয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রভাবশালী মত নেতাও।
প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়ার পরেই নারদা কাণ্ডে ধৃত মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায় অসুস্থ বোধ করায় সোমবার গভীর রাতেই তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয় ৷ অন্যদিকে এ দিন সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করায় প্রবীণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ তিন জনেই উডবার্ন ওয়ার্ড চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৷
এদিন রাতে উডবার্ন ব্লক থেকেই একটি ট্যুইট পোস্ট করে পরোক্ষে নিজের যাবতীয় উষ্মা প্রকাশ করেন সম্প্রতি ‘ফেসবুক লাইভ করে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা, কামারহাটি সদ্যজয়ী বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর ট্যুইট বার্তায় সিবিআই ও বিজেপিকে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানিয়ে মদন লেখেন, “হ্যাঁ এটাই সত্যি যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা সত্বেও কামারহাটিতে রেকর্ড মার্জিন নিয়ে জিতে এসেছেন মদন মিত্র। তাই তাঁকে আপনারা সর্বশক্তি দিয়ে যতই অন্ধকারে রাখতে চান না কেন, মানুষ বোকা নয়, তাই একদিন ঠিকই সত্যি প্রকাশ্যে আসবে।” তাঁর এই ট্যুইট বার্তায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল সিবিআই কে ট্যাগ করেছেন মদন মিত্র।
প্রসঙ্গত, নিজাম প্যালেস থেকে সোমবার রাত ১ টার পর প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নারদা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ জেলের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মদন এবং শোভন। তার পর তাঁদের ভর্তি করানো হয় এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে। ওই দু’জনেই এখন হাসপাতালে ভর্তি। সুব্রতকে হাসপাতালে আনা হলেও পরে তাঁকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় মদনের। তখনই তাঁকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। এখন তিনি উডবার্ন ওয়ার্ডের ১০৩ নম্বর ঘরে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছিল মদনের শরীরে। তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। জেলে যাওয়ার পর শোভনও অসুস্থ বোধ করেন। উডবার্ন ওয়ার্ডের ১০৬ নম্বর ঘরে তিনি ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সুব্রতকেও প্রথমে হাসপাতালে আনা হলেও, পরে তাঁকে ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Be the first to comment