রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি করে পাঁচিল টপকে ‘শহীদদের সমাধিস্থল’ বা ‘মাজার-ই-শুহাদা’য় প্রবেশ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর কেন্দ্রের পুলিশবাহিনীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তিনি। ১৯৩১ সালে ১৩ জুলাই মহারাজা হরি সিংহের ডোগরা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তাঁরা (শহীদরা)। ১৩ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষ নেতাদের দেওয়ার একদিন পরই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন।
উপত্যকার এই গোটা ঘটনায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। গোটা ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ওমর আবদুল্লার পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘কেউ যদি শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে যান তাতে সমস্যা কোথায়? এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সামিল। আজ সকালে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না। অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই কাশ্মীরের ইতিহাসে একটি অন্য দিন। ১৯৩১ সালের এই দিনে, একদল কাশ্মীরি শ্রীনগর কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁরা আব্দুল কাদিরের সমর্থক ছিলেন, যিনি কাশ্মীরিদের ডোগরা শাসক হরি সিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ১৩ জুলাই, আব্দুল কাদিরকে যেখানে বন্দি রাখা হয়েছিল, সেই কারাগারের বাইরে বিক্ষোভকারীদের একটি বিশাল দল জড়ো হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয়ে, মহারাজার বাহিনী গুলি চালায়, যার ফলে ২২ জন নিহত হন।

Be the first to comment