রোজদিন ডেস্ক : নেতাজির জন্ম জয়ন্তীর মঞ্চ থেকেও এসআইআর নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হত? ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু শুনানির নোটিস পেয়েছেন, সেই প্রসঙ্গে টেনে এই কথা বলেন তিনি। এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ফের আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় একশো দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্কে তিন থেকে চার জন করে আত্মঘাতী হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এত ঘটনার পরেও কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না এবং কেন কেন্দ্রীয় সরকার এর দায় নেবে না। যদিও রাজ্য সরকারের মঞ্চ থেকে বিজেপি নাম উচ্চারণ করেননি তিনি। দেশের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ভারতের ইতিহাস গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, মনীষীদের অসম্মান করা হচ্ছে, ভাষার প্রতিও অসম্মান চলছে। এই প্রসঙ্গেই নেতাজির পরিকল্পনা কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে বলেন, জেনেবুঝেই সেই প্রতিষ্ঠান তুলে দেওয়া হয়েছে, তার বদলে তৈরি হয়েছে নীতি আয়োগ। সেটি কার্যত কোনও কাজে লাগছে না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। ২৩ জানুয়ারিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা না করার প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নেতাজির জন্মদিনকে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়া হয়নি, এমনকি তাঁর মৃত্যুর রহস্যও আজ পর্যন্ত অজানা থেকে গিয়েছে।।
এসআইআরের কারণে সাধারণ মানুষ যে যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছেন, তার প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যারা আজ মানুষকে যন্ত্রণা দিচ্ছে, তাদেরও একদিন সেই যন্ত্রণা পোহাতে হবে। একই সঙ্গে জানান, তাঁর বাড়িতে থাকা এক পরিচিত তরুণীর পরিবারের সকলকেও এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে পাঠানো নোটিস প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, এখন নাকি বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক জানতে চাওয়া হচ্ছে, এমনকি কে কার সঙ্গে বিয়ে করবে বা প্রেম করবে, সেটাও ঠিক করে দিতে চাইছে।

Be the first to comment