রোজদিন ডেস্ক :
দেশব্যাপী ধর্মীয় উন্মাদনা, সরকারিভাবে ধর্মীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি রুখতে যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আজ কলকাতায় নাস্তিক মঞ্চের সম্মেলনে একাধিক বক্তা এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। ধর্মকে সামনে রেখে যেভাবে বিভেদ, বিভাজন, বিদ্বেষের বিষ ছড়াচ্ছে তা নিয়ে সম্মেলনে উদবেগ ব্যক্ত করা হয়। রামমোহন লাইব্রেরির হলের এই অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা আড়াইশো জনের মত মানুষ আসবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি মানুষ আসেন।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশীষ লাহিড়ি , কনিষ্ক চৌধুরী, প্রতাপ দাস, বাসুদেব ঘটক প্রমুখের বক্তব্যে দেশের ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় উন্মাদনা নিয়ে উদবেগ ব্যক্ত করা হয়। বিশেষত, রাজনীতির সঙ্গে ধর্মের মিশেলে যে বিষবৃক্ষের রোপণ হচ্ছে, তার ভবিষ্যৎ কি সেই বিষয়ে তাঁরা উদবেগ ব্যক্ত করে এই বিষয়ে সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
ধর্ম নয়, বিজ্ঞান, মানবতা, যুক্তিবাদ, কুসংস্কার মুক্ত সমাজ, রাজ্য, দেশ গঠনেরর ওপর জোর দেন।
বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশীষ লাহিড়ি জানান, ধর্মানুভূতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মর ফারাক আছে। প্রসঙ্গত তিনি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ের উল্লেখ করেন। জেমাইমা রডরিগসের আবেগজাত কান্নার কথাও উঠে আসে।
বিশিষ্ট লেখক, প্রবব্ধকার শুভরঞ্জন দাশগুপ্ত গ্যালিলিওর ওপর ধর্মযাজকদের নিপীড়নের কথা বলেন।
ধর্মান্ধতা, ধর্ম নিয়ে উন্মাদনা যে বরাবরই প্রগতির পথ রোধ করে, বিভিন্ন বক্তার কথায় তা স্পষ্ট।
শুধু নাস্তিক বা নিরীশ্বরবাদী নয়, সংশয়বাদী, ধার্মিকদেরও এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আহবান জানিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এমন বহু মানূষ ও আজ আসেন। মন দিয়ে বক্তব্য শোনেন। আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের অনেকে হয়ত এখনও পুরোপুরি সংস্কারমুক্ত হতে পারেননি, কিন্তু বিজ্ঞান, প্রগতিতে বিশ্বাসী।
মূলত যুক্তিবাদী, মানবতাবাদী, কুসংস্কার মুক্ত, প্রগতিশীল সমাজ, রাজ্য, দেশ গড়ার যে স্বপ্ন নাস্তিক মঞ্চ দেখছেন, একদিন তা সফল হবে বলে আশা তাঁদের। এই লক্ষ্যে আরও সম্মেলন, সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা সবাই।

Be the first to comment