মাসানুর রহমান, কলকাতা:- আজ ৮ই জুলাই, দুই কিংবদন্তি বাঙালির জন্মদিন। একজন ক্রিকেটের বাইশ গজের প্লেয়ার ভারতীয় ক্রিকেট টিমের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। অপর জন রাজনীতির বাইশ গজের প্লেয়ার বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু।
১৯৭৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন জ্যোতি বসু | ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা তেইশ বছর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন । তিনিই ছিলেন ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী । এছাড়াও ১৯৬৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিআই(এম) দলের পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ডে গিয়ে কমিউনিস্ট ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন বসু । ১৯৪০ সালে গ্রহণ করেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ । ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের প্রাদেশিক আইনসভায় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি রূপে নির্বাচিত হন । দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হন তিনি । ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বে তিনি হন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ।
১৯৬৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজনের পর জ্যোতি বসু যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) দলে । ১৯৬৭ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী হন তিনি । এরপর ১৯৭৭ সালের ২১ জুন শপথ নেন পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে । ১৯৯৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম বিবেচিত হলেও, তিনি পার্টির সিদ্ধান্তে সেই পদ প্রত্যাখ্যান করেন । টানা ২৩ বছর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০০ সালের ৬ নভেম্বর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করে অবসর নেন বসু । মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জ্যোতি বসুর শাসনকাল সাফল্য ও ব্যর্থতায় মিশ্রিত থাকলেও তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, ভূমি সংস্কার ও কৃষকসমাজ উন্নতির মুখ দেখেছিল । মুখ্যমন্ত্রীত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পরও সক্রিয় রাজনীতি করেছেন তিনি । এরপর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে, ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি, ৯৬ বছর বয়সে জীবনাবসান হয় কমরেড জ্যোতি বসুর ৷
অন্যদিকে ক্রিকেটের বাইশ গজের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি, তিনি এমন একজন অধিনায়ক যিনি তাঁর দলকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হয়। যিনি সতীর্থদের বলেছিলেন, ভয় পেও না, আমি আছি তোমার পাশে। এজন্যই সৌরভ গাঙ্গুলিকে বেঙ্গল টাইগার বলা হয়। সবার প্রিয় দাদা সৌরভ গাঙ্গুলি আজ তাঁর ৫৪তম জন্মদিন।
সৌরভ গাঙ্গুলির ক্রিকেট ক্যারিয়ার অসংখ্য মাইলফলকে ভরা। ১৯৯২ সালে ভারতীয় দলের হয়ে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন সৌরভ এবং প্রথম ম্যাচে তিনি ৩ রান বানিয়ে একটি হতাশজনক সূচনা করেছিলেন। এরপর, ১৯৯৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেন সৌরভ। প্রথম ম্যাচেই ৩০১ বলে ১৩১ রান বানিয়েছিলেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী এবং নিপুণ দক্ষতা তাকে দ্রুত ভারতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তোলে। ২০০২ সালে লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের সেই জার্সি ওড়ানোর মুহূর্ত আজও সমাজ মাধ্যমে চর্চার মূল বিষয় হয়ে থাকে। ক্যাপ্টেন হিসাবে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় তাঁর ক্যাপ্টেন্সির একটি বড় মুহূর্ত ছিল। এরপর, ২০২৩ সালেই দীর্ঘ ২০ বছর পর ভারতকে বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছে দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সৌরভ। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর, গাঙ্গুলি প্রশাসনে স্থানান্তরিত হন। বাংলার ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বে থাকার পরেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৌরভ।
ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গাঙ্গুলির অবদান প্রচুর। গাঙ্গুলির হাত ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী যুগের আবার সূচনা হয়, এমনকি সৌরভের উল্লেখযোগ্য ক্যারিয়ারের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী সহ বেশ কয়েকটি পুরষ্কারে স্বীকৃত হয়েছে। সৌরভ গাঙ্গুলির জীবনী তাঁর আবেগ, নিষ্ঠা এবং নেতৃত্বের প্রমাণ। তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর প্রথম দিন থেকে শুরু করে ভারতের অধিনায়ক ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসক হিসাবেও তাঁর সাফল্য ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা।
আজ এই দুই সফল কিংবদন্তি বাঙালির জন্মদিনে। অফুরান শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

Be the first to comment