রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:– প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও নন্দীগ্রামের রাস্তায় টহল দিচ্ছিল পুলিশ গাড়ি। দুষ্কৃতীদের গাড়ি আটকাতে গিয়ে ঘটল বিপদ। দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন দুই পুলিশ কর্মী ও তাঁদের গাড়ির চালক। পরে চিকিৎসা কেন্দ্রে মৃত্যু হয় চালকের। গুরুতর আহত হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মী। মৃত চালকের নাম সহদেব প্রধান। তাঁর বাড়ি নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল উত্তেজনা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোরে দুষ্কৃতীরা একটি লরি নিয়ে পালাচ্ছিল। মনে করা হচ্ছে, সেই লরিতে গরু পাচার করা হচ্ছিল। পুলিশের টহলদারি ভ্যান লরিটিকে ধাওয়া করছিল। সেই সময় লরিটি পুলিশের ভ্যানে ধাক্কা মারে। তখনই গাড়ি থেকে পুলিশ কর্মীরা ও চালক নেমে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের গাড়ি চালককে পিষে দিয়ে পালিয়ে যায় লরিটি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনই গাড়ির চালককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি দুজনের চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত পুলিশের গাড়ি চালকের নাম সহদেব প্রধান। রেয়াপাড়ার বাসিন্দা। বয়স ২৫ বছর। তিনি রেয়াপাড়া থানার গাড়ি চালাতেন। বাড়িতে বৃদ্ধা মা এবং ভাই রয়েছেন। সঠিক তদন্তের দাবিতে রেয়াপাড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখায়। ঘাতক গাড়িটির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় রাজনীতির রং লেগেছে।
ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবিতে রেয়াপাড়া ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে বিজেপি সমর্থিত মানুষজন বিক্ষোভ দেখান বৃহস্পতিবার সকালে। তবে বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতৃত্বরা। তৃণমূলের দাবি, যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু তাতে রাজনৈতিক রং লাগানো ঠিক নয়। বিজেপিও চায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হোক।

Be the first to comment