দেরাদুনে ত্রিপুরার তরুণের মর্মান্তিক হত্যা, নিন্দা রাহুল গান্ধীর

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : উত্তরাখন্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার তরুণ এমবিএ পড়ুয়া অ্যাঞ্জেল চাকমার মর্মান্তিক হত্যার তীব্র নিন্দা করলেন লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। এই ঘটনাকে ভয়ংকর বলে জানান তিনি। এর জন্য বিজেপিকে দায়ী করে সমাজমাধ্যমে বলেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য দায়িত্বহীন ধারণা ও বিষাক্ত পরিমন্ডল দায়ী। রাহুল গান্ধী বলেন, উত্তরাখন্ডের দেরাদুনে অ্যাঞ্জেল ও তাঁর ভাই মাইকেল চাকমার ওপর ভয়ংকর ঘৃণ্য অপরাধ হয়েছে। রাতারাতি এই ঘৃণা আসেনি, বছরের পর বছর তা লালিত হয়েছে, এখন প্রতিদিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিষাক্ত ভাবনা, দায়িত্বহীন ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শাসক বিজেপির ঘৃণা ছড়ানো নেতাদের কাছে তা স্বাভাবিক।
ভারত ঐক্য ও একতার ওপর তৈরি হয়েছিল, ভয় ও গালির ওপর নয়।

এই দেশ ভালবাসা ও বৈচিত্রের বলে জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমাদের মৃত সমাজ হওয়া উচিত নয়, যেখানে ভারতীয়দেরই নিশানা করা হচ্ছে।” তিনি নিহত অ্যাঞ্জেলের পরিবার, ত্রিপুরা ও উত্তার পূর্বাঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে আছেন। তাঁদের ভারতীয় ভাই বোন বলে সম্বোধন করে তাঁরা গর্বিত বলে জানান।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরার বাসিন্দা দুই ভাই অ্যাঞ্জেল ও মাইকেল দেরাদুনে এমবিএ পড়তেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে দেরাদুনে কয়েকজন তাঁদের চিনা তকমা দিয়ে নানাভাবে উত্যক্ত করেন। তাঁরা যতই নিজেদের ভারতীয় বলেন, অন্যরা তা না মেনে ক্রমেই সুর চড়াতে থাকেন। তাঁদের প্রচন্ড মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার অ্যাঞ্জেল শেষ নিশ্বাস ফেলেন। এই ঘটনায় ত্রিপুরা, উত্তর পূর্বাঞ্চল-সহ সারা দেশেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিহত তরুণের বাবা বিএসএফের হেড কনস্টেবল। ত্রিপুরায় এর বিরুদ্ধে প্রবল বিক্ষোভ হচ্ছে। তিপ্রা মথার প্রধান প্রদ্যোত দেব বর্মণ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষদের চিনা ইত্যাদি তকমা দিয়ে অত্যাচার করা হয়, অথচ উত্তর ভারত থেকে পড়ুয়ারা এলে উত্তর পূর্বাঞ্চলে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়।
অ্যাঞ্জেলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে উত্তরাখণ্ড ও ত্রিপুরা উভয়ই বিজেপি শাসিত হওয়ায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবিরও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*