রোজদিন ডেস্ক : জুমলার ওপর ফের জুমলা বিজেপির। আগেই মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের নামে এক জুমলা বা স্ক্যাম দেখেছি আমরা। তারপর আজ বৃহস্পতিবার বিধি ভেঙে ফের যুবশক্তি কার্ড নামে আরও একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছে তারা। কিন্তু তাদের পুরোটাই যে একটা ধাপ্পাবাজি সেটা প্রথমদিনই প্রমাণ হয়ে গেল। যুবশক্তির নাম করে বাংলার যুবকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হল মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড। এটা তো জুমলার ওপর আরও একটা জুমলা। এই ভাষাতেই এদিন তৃণমূল ভবন থেকে বিজেপিকে নিশানা করলেন ডাঃ শশী পাঁজা ও প্রতীক উর রহমান। এভাবেই বিজেপি বাংলার মহিলা ও যুবকদের অপমান করছে বলেও সরব হন শশী পাঁজা।
এদিন তিনি বলেন, আজ পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি, নারী নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা, নারী সম্মান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু এরা নারীদের কতটা সম্মান করে সেটা আমরা জানি। এর আগে বিজেপির স্মৃতি ইরানি কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড চালুর ঘোষণা করেন। কিন্তু এই শুভেন্দু অধিকারী এক সময় বীরবাহা হাঁসদার মতো একজন আদিবাসী মহিলা সম্পর্কে কী বলেছিলেন আমরা জানি। তার ওপর নির্বাচনের সময় এভাবে কোনও প্রকল্পের ঘোষণা করা যায় না জেনেও বিজেপি এই কাজ করেছে। এই নিয়ে আমরা কমিশনে অভিযোগও জানিয়েছি। এর মধ্যেই এই বিজেপির নেতা, কর্মীরা মহিলাদের নিয়ে যা বলছে তাতে একটা কথাই বলতে হয়, এই বিজেপি নেতারা আর কত নীচে নামবে? এতটা সাহস কোথা থেকে আসছে? এদের নেতা নরেন্দ্র মোদি একুশের নির্বাচনে যেভাবে রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে সম্বোধন করছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে ‘মমতা’ বলে সম্বোধন করছেন। এরপর বিজেপি নেতা, কর্মীরা কুতসিত ভাষা প্রয়োগ করছেন একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে, যিনি আবার একজন মহিলা। এরা কোথায় নামছে? কোথায় দাঁড়াচ্ছি আমরা? বিজেপির রাজনৈতিক দৈনতার কথা আমরা বলি, কিন্তু তাঁদের কালচার যদি এই জায়গায় যায় সেটা বাংলার জন্য, মহিলাদের জন্য, সমাজের জন্য ভারতবর্ষের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটা জায়গা তৈরি করছে। এর বলছে, নারী সুরক্ষা, নারী শক্তি নিয়ে।
এর পাশাপাশি যুবশক্তি কার্ড নিয়েও এদিন কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতীক উর রহমান বলেন, অতি ভক্তি চোরের লক্ষ্মণ সবাই জানে। নির্বাচনের আগে হঠাৎই যুবশক্তি না যুবভক্তি কী নিয়ে এসেছে। বাংলার।মানুষ কিন্তু বুঝতে পারছে গেরুয়া বসন পরে অতি ভক্তি কিন্তু চোরের লক্ষ্মণ। যুবকদের দিয়ে কীসব ফর্ম ফিল আপ করিয়ে কাউকে ২ হাজার, কাউকে ৩ হাজার টাকা ধরাচ্ছে। কিন্তু বিজেপি শাসিত তো এতগুলো রাজ্য আছে সেখানে কেন দিচ্ছে না, জবাব দিক বিজেপি। সোজা কথায় এটা আরও একটা জুমলা বিজেপির। এদের জমানাতেই রেকর্ড ছুয়েছে দেশের বেকারত্ব। তারপরও এরা বড় বড় কথা বলছে।

Be the first to comment