রোজদিন ডেস্ক : স্বামী, শিশু সন্তান-সহ দিল্লির সোনালি খাতুন-কে (sonali khatun case) নজিরবিহীন তৎপরতায় বাংলাদেশে পাঠানোয় ক্ষুব্ধ কলকাতা উচ্চ আদালত। আট মাসের গর্ভবতী সোনালি খাতুন-কে কেন দ্রুত প্রতিবেশী দেশে পাঠানো হোল, দিল্লি পুলিশের কাছে তা জানতে চেয়েছেন দুই বিচারক তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্র-র ডিভিশন বেঞ্চ। এই ঘটনায় বিজেপির বাংলা বিরোধী ভূমিকা নিয়ে ফের সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দল বলে, আদালতে মুখ পুড়লো বিজেপির। ওদের বাংলা ও বাংগালি বিরোধী ভূমিকা প্রকাশ পেলো।
খবরে প্রকাশ, বিজেপি শাসিত দিল্লিতে কাগজ কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন সোনালিরা। গত ২১ জুন বাংলাদেশী সন্দেহে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।কিন্তু কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তড়িঘড়ি ২৪ জুন তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আদতে বীরভূমের বাসিন্দা সোনালি ও তার পরিবারের এই খবরে রাজ্যে তোলপাড় ওঠে। সোনালির বাবা দিল্লি পুলিশের এই অমানবিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে আদালতে যান। সেখানে বিচারক তপোব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্র র বেঞ্চ রীতিমত তিরস্কার ও ধিক্কার জানান দিল্লি পুলিশকে। তাদের আইনজীবি ধীরাজ ত্রিবেদীর কাছে জানতে চান, কোন যুক্তি তে তড়িঘড়ি গর্ভবতী সোনালি ও তার পরিবার কে বাংলাদেশে পাঠানো হোল? কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম,সন্দেহ বশে কাউকে আটক করলে ৩০ দিনের মধ্যে সেই বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।এই ক্ষেত্রে তা কিছুই মানা হয় নি। এমনকি বাংলাদেশ থেকে তাদের ফেরানো হয়েছে কিনা, বা ওই দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে কোন যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা তা ও স্পষ্ট নয়। এই সব নিয়ে দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়েছে উচ্চ আদালত।
বিচারকদের এই পর্যবেক্ষণ কে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। আদালতে বিজেপির মুখ পুড়েছে বলে ধিক্কার জানান তাঁরা।

Be the first to comment