রোজদিন ডেস্ক :
প্রথম সপ্তমীতে চোরবাগানে মর্মান্তিকভাবে নিহতদের স্মৃতিতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সন্ধ্যায় মিলন মেলায় বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এবার রাজ্যে পুজোর সংখ্যা ৫৮ হাজার থেকে বেড়ে ৬৬ হাজার হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোক সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চোরবাগানের ঘটনা আমাদের নাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্য সরকার তাদের যথাসম্ভব কর্তব্য পালন করেছে।
বিগত দিনে বলা হত নিরঞ্জন শোভাযাত্রা এই রুটে হবে। আমি কোনো সম্প্রদায়কে দায়ী করি না। বিগত সরকার আত্মসমর্পণ করত। ধর্ম যার যার উৎসব সবার বলা হত।
বৃহত্তর যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, তা থেকে পিছিয়ে এসেছি। চোরবাগান ছাড়া বাকি সব পুজোই নির্বিঘ্নে হয়েছে।
আগে অনেক পুজোয় মাইক নিয়ন্ত্রণ করা হোত। গার্ডেনরিচ, ফালাকাটা ইত্যাদি। এবার তা হয়নি। আগে বিসর্জনেও অনেক নিষেধাজ্ঞা থাকতো। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কোন সম্প্রদায়কে দোষ দিচ্ছেন না। পূর্বতন সরকারের ইচ্ছায় মুর্শিদাবাদ, মালদা, ডায়মন্ড হারবার ইত্যাদি জায়গায় তা হোত। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, এটাও যেমন ঠিক, এবার সবাই তা ঠিক মত বুঝেছেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চোরবাগান কে তিনি ছোট ঘটনা, ষড়যন্ত্র বলবেন না। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এই মর্মান্তিক ঘটনাকে মানুষের ভুল বলেছিলেন।
চোরবাগানে ঘটনায় যারা দায়ী, কাউকে সরকার আড়াল করবে না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এই তদন্ত করছেন। আগামী বছর চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। সামনে আরও অনেক উৎসব আছে। কালিপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো, ছট পুজো ইত্যাদি। ২৮ তারিখ থেকে পরবর্তী উৎসব নির্বিঘ্নে করার উদ্যোগ শুরু হবে। ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। আগামীকাল সরকারি অফিস খুলছে। আসন্ন উৎসব নিয়ে রূপরেখা ঠিক করা হবে।
গঙ্গাসাগরেও প্রাক্তন সরকারের আমলে জেটি ভেঙে ১৭ জন মারা গেছিলেন। তিনি পুরানো কথা বলতে চান না। কথা প্রসঙ্গে বললেন।
চোরবাগানে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভাল, উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সবাই ভাল, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সবার বাড়ি গিয়ে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দিয়ে এসেছেন।
বিহারের নিহত দুজনের বাড়ি মন্ত্রী উমেশ রাই যাবেন। তিনি ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। ইগো দেখিয়ে হাম কিসিসে কম নেহি বলে সরকারি হাসপাতালে রাখিনি, প্রাইভেট হাসপাতালের পরিষেবা ভালো, তাই আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সুস্থ করিয়েছি।
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনাকে কি বলবেন, এমন ভাষা অভিধানে নেই বলে দৃশ্যত শোকাহত মুখ্যমন্ত্রী জানান।
আগামীতে রাজ্যে বহু আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান হবে। ৮-৯ জানুয়ারি প্রবাসী দিবস। রাষ্ট্রপতি আসবেন। এই ছাড়া আরও বহু অনুষ্ঠান হবে, তা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য রাজ্য সরকার সব ব্যবস্থা নেবে। এই ধরনের অনুষ্ঠান কলকাতা সহ রাজ্যে অনুষ্ঠিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানান।
অত্যন্ত বেদনাহত হৃদয় নিয়ে এইদিনের বিজয়া সম্মিলনী হচ্ছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্ত হবে, রিপোর্ট পাওয়ার পর তিনি সর্বসমক্ষে তা প্রকাশ করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর যাতে এমন ঘটনা না হয় তা দেখা হবে।
এইদিন তাঁর বক্তব্যর পর কেউ যাতে হাততালি না দেন তার অনুরোধ করেন।
উপস্থিত সকলেই তা মেনে নেন।
অত্যন্ত বিষাদঘন পরিবেশে এইদিনের বিজয়া সম্মিলনী চলে। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সরকারের প্রতিনিধিরা, প্রচার মাধ্যম সহ উপস্থিত সকলেরই চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনায় ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এতে অংশ নেন।

Be the first to comment