কর্তব্যের জন্য শুধু বাইরের খোলসটাই রুক্ষ, ভিতরে যে স্নেহ-মমতার ফল্গুধারা বয়ে চলেছে সেটা আবারও প্রমাণ করলেন তেলঙ্গানার একদল পুলিশ কর্মী। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এক পরীক্ষার্থী মায়ের ফুটফুটে শিশুকে ঠিক বাবার মতোই পরম মমতায় আগলে রাখলেন হায়দরাবাদ পুলিশের জনা চারেক কনস্টেবল। কোলে শিশু নিয়ে পুলিশ কর্মীদের ছবি দেখে মন ভরে উঠল দেশবাসীর।
এই নিয়ে দ্বিতীয় বার তেলঙ্গানা পুলিশকে ‘বেবি সিটিং’ করতে দেখা গেল। শুরুটা করেছিলেন মোসাপেট থানার হেড কনস্টেবল মুজিবুর রহমান। বছর আটচল্লিশের মুজিবুরকে গাছতলায় বসে শিশুর কান্না থামাতে দেখে থমকে গেছিলেন পথ চলতি মানুষ। এ বারে হায়দরাবাদ পার্সি স্কুলের সামনে ফের একই ছবি দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনেকেরই। একজন নয়, চারজন একসঙ্গে আগলে রেখেছে ছ’মাসের একটি শিশুকে। কোলে নিয়ে দোল দিচ্ছে, আদর করছে, কর্তব্যের সঙ্গে মমতার এক আশ্চর্য মিশেল।
তেলঙ্গানা স্টেট পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা চলছিল গত রবিবার। হায়দরাবাদের পার্সি স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন অনেকেই। সেখানেই দায়িত্ব পড়েছিল ওই চার কনস্টেবলের। পরীক্ষা চলাকালীন গোটা কলেজের নিরাপত্তার দায়িত্ব তাঁদেরই হাতে। ঘুরে ঘরে গোটা কলেজ চত্বরে তদারকির সময় একজনের চোখে পড়ে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে এক কিশোরী। এগিয়ে যান তিনি।
কনস্টেবলের কথায়, ‘‘কিশোরীর কাছে গিয়ে জানতে পারি শিশুটি তার দিদির ছেলে। তার মা পরীক্ষা দিতে ভিতরে গেছেন। বাচ্চাটিকে কিশোরীর জিম্মায় দিয়ে গেছেন।’’ এ দিকে দীর্ঘক্ষণ মা’কে দেখতে না পেয়ে শিশুটি কেঁদেই চলেছে। তাকে সামলাতে নাজেহাল কিশোরী। পরম মমতায় বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেন ওই কনস্টেবল। দোল দিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করতে থাকেন। সহকর্মীকে দেখে এগিয়ে যান কর্তব্যরত আরও তিন কনস্টেবল। এর পর পালা করে বাচ্চাটিকে সামলাতে শুরু করেন তাঁরা।
একজন কোলে দিয়ে দোল দেন, অন্যজন দুধের বোতল মুখে ধরেন। পুলিশের কোলের বাচ্চা দেখে ততক্ষণে স্কুলের চারদিকে ছোটখাটো একটা ভিড়। সেই ছবি তেলঙ্গানা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে পোস্ট করেছেন তাঁদেরই অন্য সহকর্মীরা।
গর্ব নয়, বরং একটি বাচ্চাকে নিরাপত্তা দিতে পেরে খুব খুশি চারজনই। ভিতরে শিশুর মা পুলিশের চাকরির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন, বাইরে সেই উর্দি পড়া পুলিশই তাঁর শিশুকে আগলাচ্ছেন। এমন ছবি শুধু প্রশাসনের কাছে নয়, গোটা দেশের কাছেই অত্যন্ত গর্বের।

Be the first to comment