রোজদিন ডেস্ক : এসআইআরের চাপে সাধারণ ভোটার থেকে বিএলওর মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার মত শীর্ষ তৃণমূল নেতারা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করেন। সিইওকে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানান, এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার সম্পূর্ণ দায় কমিশনের উপরেই বর্তায়। তাঁদের দাবি, কমিশনের তৈরি পোর্টাল ভুলে ভরা। বারবার কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুথ লেভেল কর্মীদের চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সময়সীমা অত্যন্ত কম হওয়ায় বিএলওদের পক্ষে তার মধ্যে কাজ শেষ করা অসম্ভব। কুলপি বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত ২০০২এর তালিকা প্রকাশ হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, কুলপির ক্ষেত্রে ২০০৩ সালের তথ্য কেন মানা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দলীয় প্রতিনিধিরা জানান, ভুলে ভরা ওয়েবসাইটের জন্য বহু মানুষ বিপাকে পড়ছেন। বহু জায়গায় ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় প্রত্যেক বুথে ১৫০ থেকে ২০০ জনের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের দাবি, কমিশন নাকি একটি রাজনৈতিক দলের ইশারায় প্রায় দুই কোটি নাম বাদ দিতে চাইছে। ছবি ভুল, ক্রমিক নম্বর ভুল, বাবার নাম, স্বামীর নাম সব এক।

এই সমস্ত অভিযোগ তুলে তাঁরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে বা বিএলওদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। তৃণমূল প্রতিনিধি দল জানায়, চাপড়ায় এক মহিলা বিএলওর মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি সুইসাইড নোটে কমিশনকে দায়ী করে গিয়েছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, ২, ৫, ১৪, ২০ নভেম্বর এবং ৩০ অক্টোবর—মোট পাঁচবার চিঠি দেওয়া হলেও কমিশন কোনও উত্তর দেয়নি। এছাড়াও কমিশনের কাছে তাঁরা একটি দাবিপত্রও জমা দেন। পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তাঁর প্রশ্ন, এক কোটির বেশি নাম বাদ যাবে, এই তথ্য একটি রাজনৈতিক দল আগেভাগে জানল কীভাবে?এই প্রশ্নেরও স্পষ্ট জবাব দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Be the first to comment