রোজদিন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার আমেরিকাই ওই দেশ চালাবে বলে জানিয়ে দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সেনা কি মসৃণভাবে সস্ত্রীক মাদুরোকে নিয়ে এসেছেন, সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সেই রুদ্ধশ্বাস বর্ণনাও দিলেন। জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে তাঁর দেশই ভেনেজুয়েলা চালাবে। নিজেই এই অভিযানকে ঠিক যেন টিভি শো-এর মত বলে মন্তব্যও করলেন। সারা বিশ্ব টিভি-র পর্দায় তাঁর এই অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর বর্ণনা শুনলেন।
ট্রাম্প জানান, মাদুরোকে বাগে আনতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বের কোন দেশ যা পারেনি, আমেরিকা শুক্রবার রাতে তা অর্জন করেছে। এই ভয়ংকর অভিযানে তাঁদের কেউ হতাহত হননি বলেও দাবি করেন তিনি।এফবিআই-এর বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল পুরো ব্যাপারটি অত্যন্ত দক্ষতা, গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করে। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিকে জাহাজে করে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়ার ছবিও দেখান ট্রাম্প।
পুরো বিষয়টি নিয়ে সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিজেকে শান্তির দূত বলে দাবি করা ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই মাদুরোকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্ত এমন ঝটিতি যে মাদুরোকে তাঁরা বন্দি করে নিয়ে যাবেন, তা কেউ কল্পনাও করেন নি।
ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। ইইউ এবং ইউকে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে মর্যাদা দেওয়া উচিত।
ভেনেজুয়েলার কারাকাসে এর প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশ হয়। অবিলম্বে মাদুরোকে দেশে ফেরানোর দাবি ওঠে। সমস্বরে আমেরিকাকে ধিক্কার জানান তাঁরা।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মাচাদোর মুখপাত্র এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি। অতি সম্প্রতি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মাচাদো, ট্রাম্প তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁদের দেশ কোন ভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত নয় বলে তিনি দৃঢ় ভাবে জানান। সবাইকে
ধৈর্য ধরতে বলেন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘর মহা সচিব আন্তনিও গুতারেস-এর পক্ষে জানানো হয়, তিনি হতচকিত, ভীত। এই ঘটনা বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করলো। আন্তর্জাতিক আইন এখানে মানা হয়নি বলে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। রাশিয়া এই ঘটনার নিন্দা করেছে। চিনও একে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে। কিউবা, কলম্বিয়া, ইরান ইত্যাদি সব দেশই এর প্রতিবাদে মুখর হয়েছে।ভেনেজুয়েলা মাদুরো জীবিত কিনা তার প্রমাণ দাবি করেছে।
আমেরিকার মিত্র দেশ ইতালি, ইজরায়েল আমেরিকার সমর্থন করেছে।
ভেনেজুয়েলার ওপর এই আক্রমণের নিন্দায় সরব হয়েছেন আমেরিকায় ডেমোক্রাটরা।
ভারতে সিপিআই এমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এই ঘটনার প্রতিবাদ করে একে আমেরিকার “নগ্ন আগ্রাসন”, বলে মন্তব্য করেন। ভারত এই বিষয়ে নীরব থাকায় তিনি একে সন্দেহজনক বলে মনে করেন।
ভেনেজুয়েলা ইসুতে কার্যত বিশ্ব এখন বিভক্ত। অনেকে আমেরিকার এই আগ্রাসী ভূমিকায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধর অশনি সঙ্কেত দেখছেন। যদিও আমেরিকার একাধিক বন্ধু রাষ্ট্রও এর সমর্থন করেনি।

Be the first to comment