একুশে জুলাইয়ের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাবে বিধানসভায় আলোচনা চেয়ে পালটা চিঠি শোভনদেবের

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : সোমবার বিধানসভায় একুশে জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্ট পেশ করে তৎকালীন বাম সরকার ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগে সরব হন তিনি। তিনি অভিযোগ তুলতেই পাল্টা সুর চড়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এই খাপছাড়া বা আংশিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা ঠিক নয়। বিধানসভা চলাকালীন যে কোনও একদিন এই বিষয়ে অন্তত এক ঘণ্টার একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। যেখানে সব পক্ষ নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পাবে। তবে এই আলোচনার দাবি শেষ পর্যন্ত বিএ কমিটিতে পাঠানো এবং নতুন করে বিএ কমিটি বসার সম্ভাবনা কম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেননি। এই প্রসঙ্গে শোভনদেব বলেন, সেই সময় মণীশ গুপ্ত তো বলেছিলেন তিনি কোনও গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। তাহলে কার নির্দেশে গুলিটা চলল, সেটাও তো একটা রহস্য। প্রয়োজনে এই সত্য উদঘাটনে আরও একবার তদন্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। এর পাশাপাশি, ১৪ বছর আগে জমা পড়া একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে কেন এতদিন দেরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল বিধায়কের দাবি, রিপোর্ট তো এখন ওপেন হয়ে গেছে। আমরা পুরো রিপোর্ট আগে ভালো করে পড়ে নিই তারপর জবাব দেবো। শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষের বিরোধিতা করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বাম আমলের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ঘটনার পরেই সুভাষ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি তহবিল গড়া হয়েছিল, যেখানে দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বহু সাধারণ মানুষ অবদান রেখেছিলেন। সেই ফান্ডের মাধ্যমে আহত ও নিহতদের পরিবারকে আলাদা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সে সময় নিহতদের প্রত্যেকটি পরিবারকে সরকারি চাকরিও দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।শহিদ নুরউদ্দিন কিংবা জয়নাল আবেদিনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নজির টেনে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই চলেছে। তাই বিধানসভার অন্দরে রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে রাজনীতি না করে, শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষের উপস্থিতিতেই একটি সুস্থ ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া দরকার।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*