যাঁরা অকুতোভয়, যাঁদের সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে কোনও দ্বিধা থাকবে না, তাঁরাই কংগ্রেসে যোগ দিন ৷ আর যাঁদের এই সমস্যা রয়েছে, তাঁরা দল ছেড়ে চলে যেতে পারেন ৷ শুক্রবার এই বার্তাই দেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী ৷ তিনি কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল কনফারেন্স করেন ৷ সেখানেই কেরলের ওয়েনাড় থেকে নির্বাচিত এই সাংসদ দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন ৷
তিনি বলেন, ‘‘দলের বাইরে কত অকুতোভয় লোক আছেন ৷ তাঁদের দলে আনতে হবে ৷ আর কংগ্রেসের অন্দরেই অনেকে আছেন, যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান ৷ তাঁদের ছুঁড়ে ফেলতে হবে ৷ তাঁদের আরএসএসে যোগ দিতে দেওয়া উচিত ৷ আমাদের প্রয়োজন নেই ওদের ৷ আমরা অকুতোভয় লোক চাই ৷ এটাই আমাদের আদর্শ ৷ এটাই আমার মূল বার্তা ৷’’
রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসে হয়তো খুব শীঘ্রই সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘটতে পারে ৷ সেই বার্তাই এদিন দিলেন রাহুল গান্ধী ৷ দলের অন্দরে যাঁদের বিজেপির প্রতি দুর্বলতা আছে, তাঁদের এখনই বেরিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন ৷ পাশাপাশি তিনি চেষ্টা করলেন যাতে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, জিতিন প্রসাদের মতো দলত্যাগের ঘটনা যাতে না ঘটে সেই বার্তা দেওয়ারও কারণ, এই নেতারা কংগ্রেস ত্যাগ করায় কংগ্রেসের ক্ষতি হয়েছে ৷ আর আগামিদিনে আরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷
অন্যদিকে কংগ্রেসের একটি সূত্র বলছে যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন রাহুল গান্ধি ৷ আর সেই কারণেই দলের বাইরের অকুতোভয় মানুষদের কংগ্রেসে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ৷ এর মাধ্যমে যে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বার্তা দিলেন, তা নয় বরং যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু মোদী সরকারের বড় সমালোচক, তাঁদেরও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করার বার্তা দিলেন ৷
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে নয়াদিল্লিতে রাহুলের বাসভবনে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সাক্ষাৎ হয় ৷ সেই বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও ছিলেন ৷ তার পরই প্রশান্তের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে জল্পনা ছড়ায় ৷ যদিও এই নিয়ে কোনওপক্ষই এখনও মুখ খোলেননি ৷ তবে রাহুলের এই মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও বাড়ল৷ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি প্রশান্তের পরামর্শেই এই বার্তা দিলেন রাহুল?

Be the first to comment