কোনও ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল’ ভারত সহ্য করবে না, হুঙ্কার দিলেন মোদী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:-  আমাদের সেনাবাহিনী সর্বদা সতর্ক। আকাশ, জল থেকে মাটি- সর্বত্র আমরা প্রস্তুত থেকেছি। ‘নতুন নর্মাল’ তৈরি করেছে সেনা। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হগলে আবার জবাব দেওয়া হবে। কোনও ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল’ ভারত সহ্য করবে না।
সংঘর্ষবিরতি হয়েছে ঠিকই, তবে অপারেশন সিঁদুর শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের গতিবিধির উপর ভারতের নজর থাকবে। বেগড়বাই করলে মুখের উপর জবাব দেওয়া হবে। সেটাও আমাদের নিজস্ব শর্তে, নিজস্ব পদ্ধতিতে। রবিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে পাকিস্তানকে নিউ নর্মালের তিন শর্ত স্পষ্ট করে দিলেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “দুনিয়া দেখেছে কীভাবে ভারত পাকিস্তানের ড্রোনকে পাকিস্তানের আকাশেই নষ্ট করে দিয়েছে। পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। আমরা পাকিস্তানের বুকে আঘাত করেছি। ভারতের ড্রোন, মিসাইল অভ্রান্ত নিশানা গিয়ে আঘাত হেনেছে। পাকিস্তানের এয়ারবেসের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই এয়ারবেস নিয়ে পাকিস্তানের খুব অহঙ্কার ছিল।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই ভারতীয় সেনা থেকে শুরু করে আধাসেনাকে স্যালুট জানান ৷ পাকিস্তান সম্পর্কে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে হয় না ৷ সন্ত্রাসবাদ ও ব্যবসাও একসঙ্গে হতে পারে না ৷ জল ও রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না ৷” বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে তাঁর সাফ কথা, “আমি আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলব, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কথা হলে, সন্ত্রাসবাদ নিয়েই হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের কথা হলে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই হবে। এটাই আমাদের ঘোষিত নীতিই।”
এরপরই তিনি বলেন, জঙ্গিরা স্বপ্নেও ভাবেনি ভারত এত বড় পদক্ষেপ করবে। পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে আমরা ড্রোন মিসাইলের হামলা করেছি। তিনি এও বলেন, পাকিস্তানের ভাওয়ালপুর মুড়ি এইসব জায়গায় সন্ত্রাসবাদ রোপন করা হয়, সেই সব জায়গায় আমরা আঘাত করেছি। ভারতের এই আক্রমণে ১০০-রও বেশি সন্ত্রাসবাদীকে ধ্বংস করা হয়েছে। ভারতের এই প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান দিশেহারা হয়ে পরেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এরপরই পাকিস্তান আতঙ্কবাদীদের ধ্বংস করার জায়গায় ভারতের ওপর আক্রমণ করতে শুরু করে। এরপরই পাক সেনারা বদলা নিতে তাঁরা ভারতের মন্দির, মসজিদ, গুরুদুয়ারা গুলোকে নিশানা করে। সাধারণ নাগরিক থেকে সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের পাশে থাকার বদলে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধেই হামলা চালায়।
এরপর ভারতের সাফল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দুনিয়া দেখল পাকিস্তানের একের পর এক মিসাইল হামলা কিভাবে ভারত মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। অন্যদিকে, ভারতের ড্রণ মিসাইল পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে সঠিক ভাবে চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করে।
এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি জানান, ভারত প্রথম তিন দিনেই পাকিস্তানকে এমন ভাবে নাকাল করে যে ওদের আন্দাজি ছিল না। পাকিস্তানের পহালপুর, মরিদ, বিশ্বের সন্ত্রাসের বিশ্ববিদ্যালয় বলে কটাক্ষ করলেন মোদি।
মোদি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ন্যায়ের অখণ্ড প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞার পরিনাম কি হতে পারে দেখেছে দেশ। আমাদের তিন বাহিনী সব সময় সতর্ক হয়ে আছে। অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত বলে অভিহিত করেন।
পাকিস্তানের জঙ্গিদের যেভাবে সেই দেশের সেনাপ্রধানরা শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন তা নিয়ে কটাক্ষ করে মোদি বলেন, পাকিস্তানের আতঙ্কবাদীদের যেভাবে সরকার ট্রিট করল তাতে দেখে মনে হযল এটা স্টেট স্পন্সরের টেরারিজমের উদাহরণ। অপারেশন সিঁদুরে ভারতের তৈরি অস্ত্রের সাফাল্য নিয়ে মোদি বলেন, মেড ইন ইন্ডিয়ার ডিফেন্স দিয়ে যুদ্ধ করার সময় এসে গেছে বিশ্বের কাছে।
এদিনের বার্তায় মোদী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হয় তাহলে শুধুমাত্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই কথা হবে।
এদিন তিনি বিরোধীদেরও বার্তা দিয়ে বলেন, দেশের বর্তমান সময়ে আমাদের সকলের উচিত এক হয়ে থাকা। আমাদের একতাই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েও বলেন, এটা ঠিক এই যুগ যুদ্ধের নয়। কিন্তু এই যুগ সন্ত্রাসবাদেরও নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি আমাদের।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি সরকার পাকিস্তানি সেনা যেভাবে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে সেটাই পাকিস্তানকে একদিন শেষ করে দেবে।পাকিস্তানকে বাঁচতে গেলে নিজেদের সন্ত্রাসবাদীদের শেষ করতে হবে। না হলে ওদের বাঁচার কোন রাস্তা নেই। জল এবং রক্ত একসঙ্গে বইতে পারেনা।
এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় লক্ষ করা যায় প্রধানমন্ত্রীর পোশাক চয়নের ক্ষেত্রেও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। পাশাপাশি, এদিন তাঁর ভাষনণেও উঠে আসে বৌদ্ধ পূর্ণিমার কথা। বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামার পোশাকের রঙে শান্তি শৌর্য ও পরাক্রমের যে অর্থবহ করে। এদিনও প্রধানমন্ত্রীর পরিহিত পোশাকের রং ছিল মেরুন ও সাদা। যা শান্তি শৌর্য ও পরাক্রমের অর্থই তুলে ধরে। অন্যদিকে, এদিন তিনি শান্তির বার্তা দিতে গিয়ে গৌতম বুদ্ধের নাম নেন।
এদিন শেষে তনি বলেন, প্রত্যেক ভারতীয় শান্তিতে বাঁচুক। বিকশিত ভারতের স্বপ্নকে পুরো করতে পারে তাই শান্তি বজায় রাখতে ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। এবং প্রয়োজনে শক্তির ব্যবহার করাও জরুরী। যা গত কয়েকদিনে ভারত করে দেখিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*