রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- দুষ্কৃতীর গুলিতে ঝাঁজরা হয়েছিলেন মালদা তৃণমূলের সহসভাপতি তথা ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার দলে দীর্ঘদিনের সহকর্মীর করুণ পরিণতিতে তাঁর বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুলাল সরকারের স্ত্রী চৈতালি সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছিলেন, দুলালের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে চৈতালি। এবার সেই চৈতালিকেই মালদায় দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দিল তৃণমূল। বর্তমানে চৈতালি ইংরেজবাজার পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। পাশাপাশি তিনি শিশু কল্যাণ সমিতির সদস্যও। এর আগে মালদা তৃণমূলের চেয়ারম্যান ছিলেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। কিন্তু সমরবাবুর বয়স হয়েছে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতাও রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই এবার দায়িত্বে চৈতালি সরকারকে আনা হল বলে মনে করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর চৈতালি সরকার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি দলের জন্য কাজ করে যাব।’
এছাড়াও আরও কিছু কিছু জায়গায় জেলা স্তরে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গঙ্গার অপর পাড়ে হাওড়ায় শহর এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে। এই পদে ছিলেন ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ। পরিবর্তন আনা হয়েছে শহর তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদেও। এই পদে ছিলেন লগনদেও সিং। তাঁকে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী ও মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। এদিকে, বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি ও চেয়ারপার্সন এবং দার্জিলিং সমতলের সভাপতির নাম পরে ঘোষণা করা হবে বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর জেলা বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় পীযূষ পণ্ডা ছিলেন জেলা সভাপতি। তা অপরিবর্তিত রাখা হল। কিন্তু তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদল করে দেওয়া হল। অসিত চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে সেখানে জেলা সভাপতি করা হয়েছে সুজিত কুমার রায়কে।
বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই সাংগঠনিক জেলাতেই বদলে ফেলা হল সভাপতি। বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সরানো হল বাঁকুড়ার সাংসদ অরুপ চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাশঙ্কর রায়কে। তারাশঙ্কর এত দিন বাঁকুড়ার তালড্যাংড়া ব্লকের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলাতেও জেলা সভাপতি পদে রদবদল করা হল। সভাপতি পদ থেকে বিক্রমজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল সুব্রত দত্তকে।
ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ভোটকে একত্রিত করতে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার দায়িত্বে নিয়ে আসা হল মমতা বালা ঠাকুরকে। সভাপতির দায়িত্বে নিয়ে আসা হল বিশ্বজিৎ দাসকে। সরিয়ে দেওয়া হল ইলা বাগচিকে।

Be the first to comment