প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ধীমান দত্ত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- প্রয়াত বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ধীমান দত্ত। বেশ কয়েকদিন ধরেই স্নায়ুর রোগে ভুগছিলেন, চলছিল চিকিৎসা। শুক্রবার, দুপুরে সল্টলেকের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী ও পুত্রকে।
মাঠের সংবাদজগতে অত্যন্ত পরিচিত নাম ধীমান দত্ত। বন্ধু ও সাংবাদিক মহলে ‘সবার প্রিয় ছিলেন ‘ধীমান দা’ নামেই। মোহনবাগান গ্যালারিতে আগুনে পোস্টার লিখতেন সে সময়। যা চোখে পড়ে গিয়েছিল আজকাল-এর দীর্ঘ দিনের সম্পাদক অশোক দাশগুপ্তর। আনন্দবাজারের ক্রীড়া সম্পাদক মুকুল দত্তর ছেলেকে চিনতে ভুল করেননি। মাত্র ২০ বছর বয়সে ক্রীড়াসাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ধীমান দত্ত। তিন বছরের মাথায় ক্রীড়া সম্পাদক। সে সময় বাংলা খবরের কাগজের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ ক্রীড়া সম্পাদক। আজও সেই রেকর্ড অক্ষত।
সে সময় ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের দাপট। ভারতীয় ফুটবল বলতে এই দুই দলেরই রমরমা। আর বেশ খানিকটা মহমেডান স্পোর্টিং। ক্রীড়াসাংবাদিক হিসেবে অগুণতি খবর করেছেন। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে আমূল বদলে ফেলেছিলেন নিজেকে। সব অর্থেই যেন দলের ক্যাপ্টেন। দলবদলের খবর থেকে তারকাদের হাঁড়ির খবর, সব মিলত আজকালের খেলার পাতায়। দেশ থেকে বিদেশ, সহকর্মীদের সর্বত্র পাঠাতেন। অচিরেই আজকাল হয়ে উঠেছিল সর্বভারতীয় খেলার কাগজ। সুভাষ ভৌমিক থেকে সুব্রত ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য থেক কৃষাণু দে, নানা প্রজন্মের তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁর। শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেটেও সমান বিচরণ ছিল ধীমান দত্তর। চাঁচাছোলা ভাষায় যেমন সমালোচনা করতে পিছপা হতেন না, তেমনই বিশ্লেষণাত্মক লেখায় ছিলেন পারদর্শী।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের বেশি আজকাল পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। নিজের হাতে একাধিক সাংবাদিক তৈরি করেছেন। যারা আজ স্বনামধন্য। প্রায় তিন দশক বাংলার একটি উল্লেখযোগ্য সংবাদপত্রের ক্রীড়া সম্পাদক থাকা সত্ত্বেও বিদেশে ফুটবল এবং ক্রিকেট বিশ্বকাপ, অলিম্পিক সহ অন্যান্য বড় টুর্নামেন্ট কভার করতে নিজের থেকে জুনিয়র সাংবাদিকদের পাঠাতেন। নির্বিবাদী মানুষ ছিলেন। ময়দানের কর্মকর্তারাও পছন্দ করতেন। তিনি চলে গেলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কলম চিরকাল মনে রাখবে কলকাতা ময়দান।
ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ শরীর নিয়েও গিয়েছিলেন ক্লাবে। তাঁর প্রয়ানে শোকোস্তব্ধ গোটা সাংবাদিক মহল। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের তরফে এক বিবৃতিতে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*