রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা :- বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন মুখ্যমন্ত্রী, এই অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দারস্থ শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ওনাকে অথবা মুখ্যসচিব কে না জানিয়ে দিল্লিতে BLO-দের প্রশিক্ষণ দেওয়া নিয়ে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি BLO-দের শাসিয়েছেন যে তাঁরা যেন ভুলে না যান যে ওনারা রাজ্য সরকারের অধীনস্থ কর্মচারী, এবং কোনো নাম যেনো ভোটার তালিকা থেকে বাদ না দেন BLO-রা।”
তিনি লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের BLO-দের প্রশিক্ষণের বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপের পর, তাঁর ‘স্তাবক’ মুখ্যসচিব মনোজ পন্ত জেলা শাসকদের (যারা District Election Officer অর্থাৎ DEO এর ভূমিকা পালন করেন) মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন যে দিল্লিতে প্রশিক্ষিত ১,০০০ জন BLO-কে প্রতিস্থাপন করতে হবে; তাদের বদলে অন্য কর্মী কে BLO এর দায়িত্ব দিতে হবে। ইতিমধ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতো রকম অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা যায় তা করার জন্য দল, প্রশাসন ও ভোট কুশলী সংস্থা কে মাঠে নামিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে কল-কাঠি নাড়া সংবিধান অনুমোদিত সীমারেখা অতিক্রম করে যাওয়ার সমান।”
তিনি আরোও লেখেন, “আমি নির্বাচন কমিশন কে আবেদন জানাচ্ছি যে এই গুরুতর অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তাড়াতাড়ি সম্ভব তদন্ত শুরু করা উচিত। যদি দোষ প্রমাণিত হয়, তবে সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই সব অনধিকার হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া এবং পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কোনো অনৈতিক ও বেআইনি সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রভাবিত না হতে দেওয়া। আমি সকল DEO (জেলা শাসকদের) কে পরামর্শ দেবো যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দেওয়া কোনো মৌখিক নির্দেশ অগ্রাহ্য করুন, কারণ তা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম কানুনের পরিপন্থী, নয়তো লিখিত নির্দেশ আসতো। নির্বাচন কমিশনের-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্বাচিত BLO-দের এবং যাদের নাম EROnet পোর্টালে আপলোড করা হয়ে গেছে, তাদের শুধুমাত্র ECI-এর নির্দেশ অনুযায়ী পরিবর্তন/বদল করা যায়। শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে, যুক্তিযুক্ত কারণে ও একই বিভাগীয় প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে (যেমন ১.১, ১.২) এমন প্রস্তাব CEO-এর কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।
ERO এবং DEO-দের কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং কোনো মন মর্জি মাফিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না, কারণ নিয়ম ভঙ্গের ফলে করুণ পরিণতি হতে পারে।”

Be the first to comment