রোজদিন ডেস্ক : কুড়মি সমাজের আন্দোলনকে ঘিরে আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যর্থ হল তারা। আন্দোলনকারীদের জঙ্গিপনার কাছে হার মানল পুলিশ। ফলে দিনের শেষে জখম ৬ পুলিশকর্মী ও একাধিক আন্দোলনকারী।
সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম জানান, পুলিশ সবরকম ভাবে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ফলে বেশিরভাগ এলাকা ছিল শান্তুিপূর্ণ। তবে শনিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল জঙ্গলমহল।
বাংলা, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা মিলিয়ে ১০০টি পয়েন্টে রেল ও সড়ক অবরোধ হবে বলে আগেই জানিয়েছিল কুড়মি সমাজ। বেলা গড়াতেই ধাক্কা খায় ট্রেন চলাচল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের একাধিক লাইনে বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা। এ দিন আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে পুরুলিয়ার কোটশিলা স্টেশনে।
কোটশিলা স্টেশনে জমায়েত করে রেল অবরোধের চেষ্টা করেন কুড়মি সমাজের সমর্থকেরা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই এদিন আন্দোলনে নামেন তাঁরা। বিকেলে স্টেশনে ঢুকে পড়েন বহু আন্দোলনকারী। রেল অবরোধের চেষ্টা করলে রেল ও রাজ্য পুলিশ বাধা দেয়। তখনই বচসা বাঁধে। কিছুক্ষণের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি করে আন্দোলনকারীরা। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
আন্দোলনকারীদের পাথরবৃষ্টিতে ৬ জন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হন। পুলিশ কর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের হঠিয়ে দেয় স্টেশন চত্বর থেকে।
তাঁদের এসটি তালিকাভুক্ত করা-সহ একাধিক দাবি নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর, শনিবার ভোর ৬টা থেকে অবরোধ ও আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছিল কুড়মি সমাজ। বলা হয়, বাংলা, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা মিলিয়ে তিন রাজ্যের ১০০টি পয়েন্টে রেল ও সড়ক অবরোধ করা হবে।
তবে ঝাড়গ্রাম সহ অন্যান্য এলাকায় এদিন তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। মোটের ওপর স্বাভাবিক ছিল জনজীবন। কুড়মি আন্দোলনের জেরে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বেশ কিছু লোকাল ট্রেন বাতিল করা হয় এদিন। বেশ কিছু লোকাল ও দূরপাল্লা ট্রেনের রুট ঘুরিয়েও দেওয়া হয়। ফলে হেনস্তার শিকার হন যাত্রীরা।

Be the first to comment