রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর-এর আড়ালে রাজ্যে এনআরসি করার চক্রান্ত চলছে। এই গোটা চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছেন খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এই ভাষাতেই কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এই ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন এই ষড়যন্ত্র কোনও ভাবেই বাস্তবে রূপ পাবে না। ভোটার তালিকা থেকে যদি একটিও বৈধ নাম বাদ যায় তবে গর্জে উঠবে বাংলার মানুষ। যেভাবে নির্বাচন কমিশন এসআইআর নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে তাও ঠিক নয় বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পিছনে যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত রয়েছে তা স্পষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনও একটি দলীয় সভায় বলে গিয়েছেন অনেক নাম আমরা বাদ দেব, উনি বাদ দেওয়ার কে? আজকে ওনার সরকার আছে কালকে কিন্তু থাকবে না। একই সঙ্গে আবেদনের সুরে বিজেপি নেতৃত্বকে তিনি বলেন, বিজেপির মন্ত্রীই যদি আগে থেকে বলে দেন যে দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ যাবে তাহলে এই মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি একদিকে উৎসব অন্যদিকে দুর্যোগ বিধ্বস্ত বাংলায় যে বর্তমানে এসআইআর শুরু করার মতো পরিস্থিতি নেই সে কথা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বলেন, এখন বাংলায় দুর্যোগ চলছে। বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি, নথিপত্র ভেসে গেছে। কোথা থেকে মানুষ কাগজ দেবে? তাড়াহুড়োয় কাজ করতে গিয়ে যদি কোনও সম্প্রদায়ের নাগরিকের নাম বাতিল হয়, তাহলে বলব, আগুন নিয়ে খেলবেন না। এই আবহে নদিয়ার দুই নাগরিক পুজোর সময় এনআরসি নোটিস পেয়েছেন। এসআইআরের নামে কেন এনআরসি নোটিস পাঠাল? কোন অধিকারে বাংলার মানুষকে অসম সরকার এই নোটিস পাঠাচ্ছে? সামনে এসআইআর আর পিছনে কী? এনআরসি করবেন গায়ের জোরে? পারবেন না কখনও। প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সব সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। উৎসবের সময়ে কেন এসআইআর করার জন্য বেছে নেওয়া হলো? অনেকের নথি হারিয়ে গেছে, অনেকে বাইরে থাকেন। কেন্দ্র এ রাজ্যকে বঞ্চিত করেছে। কোনও সম্প্রদায় বা মানুষের নাম বাদ গেলে আমরা কিন্তু মানবো না।

Be the first to comment