রোজদিন ডেস্ক : সিপিএম নেতৃত্বাধীন কেরালার বাম সরকার কেন্দ্রের পি এম শ্রী প্রকল্পে স্বাক্ষর করায় শরিক সি পি আই ক্ষুব্ধ। দলের রাজ্য সম্পাদক বিনয় বিশ্বম প্রকাশ্যেই এই বিষয়ে এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, এই বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) ও রাজ্য মন্ত্রিসভায় কোন আলোচনা হয়নি। শরিকদের সম্পুর্ন অন্ধকারে রেখে সিপিআইএমের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবানকুট্টি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তোপ দাগেন তিনি। কেন্দ্রের যে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে বামপন্থীরা লড়ছেন, বাম শাসিত কেরালা কিভাবে তা মেনে নিচ্ছে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
ভোটমুখি কেরালায় দুই শরিকের এই কাজিয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী শিবানকুট্টি অবশ্য সিপিআই নেতার এই অভিযোগ স্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রের কোন চাপের কাছে তাঁরা মাথা নত করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। শুধুমাত্র কেরালার পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে তাঁরা পি এম শ্রী প্রকল্পে রাজি করেছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁরা জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণ করবেন। কেরালা নিজেদের মত করেই পাঠ্যক্রম ঠিক করবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান। বলেন, আরএসএস-এর ভাবধারায় রচিত কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি তাঁরা কখনোই রাজ্যে রূপায়িত করবেন না।
শিবানকুট্টির দাবি, কেন্দ্র শিক্ষা খাতে রাজ্যের কয়েক কোটি টাকা আটকে রেখেছে। আপাতত পি এম শ্রী প্রকল্পে রাজি হলে ১৫০০ কোটি টাকা মিলবে। যা রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে। কেরালা প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় বিশ্বাসী, এখানে সেই ভাবেই পড়াশোনা হবে।
তাঁরা কখনোই গান্ধী হত্যা ইত্যাদি বিতর্কিত বিষয়ে কেন্দ্রের অনুসারি হবেন না।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক এম.ভি, গোবিন্দন ও পৃথকভাবে বলেন, কেরালা নিজেদের পাঠ্যক্রম নিজেরাই ঠিক করবে। কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া কোন শিক্ষানীতি এখানে লাগু হবে না।
বিরোধী নেতা সাথীসন এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে এক হাত নিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পি এম শ্রী-তে রাজী হওয়ার অর্থ কেন্দ্রীয় শিক্ষা নীতি রাজ্যে লাগু করা। যা তাঁরা ও বামপন্থীরা সমর্থন করেন না। শরিক সিপিআই-কে অন্ধকারে রেখে এই প্রকল্পে রাজী হওয়া বিশ্বাস ঘাতকতার সামিল বলে তাঁরা মনে করেন।
প্রসঙ্গত, পি এম শ্রী প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচিত বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো সহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে কেন্দ্র মোটা টাকা সহায়তা করে।
ইতিমধ্যে অসম, বিহার, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ বেশ কিছু রাজ্যে এই প্রকল্পের আওতায় বহু বিদ্যালয় আছে।

Be the first to comment