কাওসার আহমেদের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথায় ঋত্বিক ঘটক
এ ধরনের আলাপচারিতা চলাকালীন কাওসার ঋত্বিককে জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘দাদা, বলুন তো ভারতবর্ষে শ্রেষ্ঠতম চিত্রনির্মাতা কে?’ ঋত্বিক উত্তরে জানান, ‘সত্যজিৎ রায়। ও হচ্ছে চুলের আগা থেকে নখের ডগা পর্যন্ত কমপ্লিট আর্টিস্ট। তবে একটু দরজি টাইপ আরকি। খুব মেপে মেপে কাটে’। বাংলাদেশে ওই ক্যাম্পে থাকাকালীন ঋত্বিক মাঝেমধ্যে কাওসারকে বলতেন, ‘আমার জন্মস্থান জিন্দাবাহার লেনে নিয়ে চল’। কাওসারের হেফাজতে তখন বেশ কয়েকটি গাড়ি ছিল। তারই একটি নিয়ে এসে যখনই ওঁ বলতেন, ‘চলুন দাদা জিন্দাবাহার লেনে চলুন’। ঋত্বিক তখনই কোমরে তোয়ালে প্যাঁচানো অবস্থায় বাইরে এসে গাড়িতে একটা লাথি মেরে বলতেন, ‘এটা কে আনতে বলেছে তোকে, ঘোড়ার গাড়ি আন’! কিন্তু ঘোড়ার গাড়ি কাওসার যোগার করতে পারেনি তাই কোনো দিনই আর তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে জিন্দাবাহার লেনে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এদিকে প্রায় এক মাস হতে যায়। ঋত্বিকের কলকাতা ফিরে যাওয়ার সময় হয়ে আসে। একদিন কাওসার তাঁর নিজের ফক্সওয়াগনে ঋত্বিককে নিয়ে তাঁর তারুণ্যের রাজশাহী হয়ে ফারাক্কা বাঁধ পার হয়ে সাড়ে চারশো মাইল ঘুরে কলকাতায় পৌছায়।
রাশিফল লিখলেও কাওসার আহমেদ চৌধুরী একজন গীতিকবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী। তাঁর লেখা আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠের বিখ্যাত গান ‘এই রুপালি গিটার ফেলে, একদিন চলে যাবো দূরে বহুদূরে। সেদিন চোখের অশ্রু তুমি রেখ গোপন করে!’ নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’-এর প্রচ্ছদ করেছিলেন কাওসার আহমেদ চৌধুরী। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। হয়তো সেই কারণেই ঋত্বিক ঘটক তাঁর ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’-তে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে কাওসার আহমেদকে অভিনয় করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সে কাজ কাওসারের করা হয়ে তিনি “স্মরণে ঋত্বিক” নামে একটি গান লিখেছিলেন, ওই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সংগীতশিল্পী নাফিস কামাল, সুর করেন সৈয়দ কল্লোল এবং সংগীতায়োজন করেন তুষার রহমান। “দেখি এই দেশে, এক শহর ছিল, যেখানে ঋত্বিক ঘটক ছিলেন, সেই শহর ছিল, ছিল সব স্বপ্ন, ছিল সব গান, ছিল সব আশা, ছিল সব ভালোবাসা।”Copyright © 2018 | rojdin.in All rights reserved. Powered by Prismhub Online Solutions Pvt. Ltd.
Be the first to comment