বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তি, কংগ্রেস-বিজেপি তরজা তুঙ্গে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :  তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বন্দেমাতরম এর দেড়শো বছর পূর্তি সারা দেশে উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হবে। এই কথা রাখতে গিয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টি বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, নিজেদের স্বার্থে বন্দে মাতরম এর বেশ কিছু অংশ ওরা বাদ দেয়। দেশ বিভাগের বীজও কংগ্রেসই বপন করে বলে তিনি তোপ দাগেন। তাঁর এই বক্তব্যর তীব্র প্রতিবাদ করেন জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিজেপি ও আরএসএস-কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, যারা এখন বন্দে মাতরম এর ভজনা করছে, তারা কোনদিন নিজেদের কার্যালয়ে এই গান করেনি।এমনকি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন-ও বিজেপি আরএসএস কখনো গায় নি বলে তাঁর অভিযোগ।
বন্দে মাতরম-এর দেড়শো বছর পূর্তিতে দেশের দুই জাতীয় দলের এই পারস্পরিক তরজায় বিস্মিত, ব্যথিত এই রাজ্যের বহু মানুষ।
আজ বন্দেমাতরম নিয়ে এই বিতর্কর সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। আজ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে দূষে বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ১৯৩৭ সালে দলের ফৈজাবাদ সম্মেলনে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্তবক ছেঁটে
ফেলা হয়, শুধু তাই নয়, দেশ বিভাগের বীজও তখন ই বপন করা হয়।
কেন এই বন্দে মাতরম এর প্রতি এই অবিচার করা হয়েছিল? সেই একই বিভাজনের আদর্শ জাতির চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র সৃষ্ট বন্দে মাতরম-এর ঢালাও প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে উৎসাহ দিয়েছে, বিভ্রান্ত করা সত্বেও যুব সমাজ বিকশিত ভারত গঠনে মন দিয়েছে।
কংগ্রেসকে ঠুকে তিনি আরও বলেন, বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাঁরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন, তাঁদের চিনে নেওয়া হবে। নৈরাশ্যবাদীরা মানুষের মনে সংশয় তৈরির চেষ্টা করবে, এই সব সময় বন্দে মাতরম তাঁদের উৎসাহিত করবে। যে মায়ের (পড়ুন ভারত) কোটি কোটি সন্তান আছে, তাদের ভয় কিসের? ভারত মাতার ১৪০ কোটি সন্তানের ২৮০ কোটি হাত আছে, এর ৬০% এর বেশিই যুব সমাজ, পৃথিবীর সব থেকে জনভিত্তিক সুবিধা এখানে আছে, তাঁদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে বন্দেমাতরম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সব বক্তব্য খারিজ করে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, দেশের স্বঘোষিত অভিভাবকরা, বিজেপি ও আরএসএস এখন বন্দেমাতরম, জনগণমনের প্রশংসায় মুখর, যারা কোনদিন এই সব গান গায় নি। পরন্তু তারা সব সময় সংগঠন কে গৌরবান্বিত করতে “নমস্তে, সদা বৎসে ” গান করতো।
১৯২৫ সালে আরএসএসের প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে তারা বন্দেমাতরম এর বিশ্বজনীন আবেদনকে এড়িয়ে চলতো। কখন ও নিজেদের লেখা বা রচনায় এর উল্লেখ ও করতো না। জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি আরও বলেন, কংগ্রেসের ঐতিহ্যই হল প্রতিটি অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়া। জনগনমন ও বন্দে মাতরম, উভয় গান নিয়েই তাঁরা গর্বিত, দলের প্রতিটি অনুষ্ঠান, সম্মেলনে দেশের ঐক্য ও গৌরবের জন্য এই গান গাওয়া হয়। আরএসএস ব্রিটিশদের ভজনা করতো। স্বাধীনতা আন্দোলন আরএসএস ও সংঘ পরিবার ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল। স্বাধীনতার পর ৫২ বছর অবধি তারা জাতীয় পতাকা তোলেনি। ভারতের সংবিধান মানেনি, গান্ধীজি ও বাবা সাহেব আম্বেদকরের কুশপুতুল পুড়িয়েছে বলে তোপ দাগেন। সর্দার প্যাটেলের কথায়, জাতির জনক গান্ধীজি কে ওরাই হত্যা করেছিল।
মল্লিকার্জুন খাড়গে গর্বের সঙ্গে বলেন, ১৮৯৬ সালে কংগ্রেসের কলকাতা সম্মেলনে তৎকালীন সভাপতি রহমতুল্লা সায়নির উপস্থিতিতে গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বন্দে মাতরম গানটি গেয়েছিলেন। স্বাধীন তা আন্দোলনে যা নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল।
ব্রিটিশদের বিভাজন ও শাসন নীতির বিরুদ্ধে বন্দেমাতরম ঐক্য ও সংহতির গান ছিল।
কংগ্রেস বুঝেছিল যে ব্রিটিশ শাসকরা দেশে জাতি, ধর্ম, সম্প্রদায়ের বিভাজনের নীতি নেবে। বন্দেমাতরম ভারত মাতার ঐক্য, সংহতি রক্ষায় সারা দেশকে এক সূত্রে বেঁধেছিল বলে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে জানান।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল বিজেপি অবশ্য বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর গান কে হাতিয়ার করে কংগ্রেস, বিশেষত জহর লাল নেহরু র বিরুদ্ধে নানা ভাবে আক্রমণ শানানোর প্রয়াস নিয়েছে।

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*