রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় গত আমূল পরিকাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে তাঁর সরকার। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন মেডিক্যাল ভ্যান উদ্বোধনের পর এমনই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, গত ১৪ বছরে ১৪টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে। ৪২টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়েছে। ১৩ হাজার ৫০০-র বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র চালু হয়েছে, আরও প্রায় ১২ হাজার তৈরি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবায় মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ৭৬টি সিসিইউ, ৩টি এইচডিইউ, ১৭টি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব, ১৩টি মাদার ওয়েটিং হাট এবং ১৫৮টি বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে ৪০ হাজার নতুন শয্যা যুক্ত করা হয়েছে।

বাম আমলের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে স্বাস্থ্য পরিষেবার এই অবস্থা ছিল না। এখন প্রতিটি ব্লক, গ্রাম, শহরে হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। আগে বাড়িতে দাইয়ের হাতে শিশুর জন্ম হত, এখন হাসপাতালে নিরাপদ প্রসব হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ব্লাড ব্যাঙ্কের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৮৯ হয়েছে। বেলুড়ে আয়ুর্বেদিক, যোগা ও ন্যাচারোপ্যাথি ডিগ্রি কলেজ হয়েছে। ৪৯টি ট্রমা কেয়ার সেন্টারও নির্মিত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবায় মানবসম্পদ বৃদ্ধির দিকেও আমরা নজর দিচ্ছি। ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য নারায়ণস্বরূপ নিগমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান— সবাই এই ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। ওষুধ থেকে শুরু করে অক্সিজেন ও রোগী পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ। জনগণ যাতে বিনামূল্যে ও সঠিক মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে বাংলার সরকার।

Be the first to comment