রোজদিন ডেস্ক :
তাঁর চরম অসময়ে এই দেশ তাঁকে মর্যাদার সঙ্গে আশ্রয় দিয়েছিল। এখন অবধি তাঁর এখানে বাসের গোপনীয়তাও ভঙ্গ করেনি ভারত সরকার। আজ বাংলাদেশের ট্রাইবুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হয়েছে৷ তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
এই সব প্রেক্ষিতে নিঃসন্দেহে চাপে থাকলেও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাবে না ভারত সরকার। এখন অবধি পড়শি দেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদন্ড ইত্যাদি নিয়েও কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি ভারত। তবে পড়শি দেশের ওপর তারা নজর রেখেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।
সূত্রের খবর, ভারতের ঐতিহ্য হল, “অতিথি দেবো ভব!! ”
শেখ হাসিনাকেও তাঁরা অতিথি হিসাবে দেখেন, এখন অবধি সেই অবস্থানের কোন পরিবর্তনের প্রশ্ন নেই। এই দেশে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে এখন অবধি কোন ঘোষণাও করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁকে অতিথির মর্যাদা দিয়েই এখানে রাখা হয়েছে বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন।
সূত্রের খবর, একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা ভেবে তাঁকে এখানে “সাময়িক ” আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, এমনটাই অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। আপাতত সেই অবস্থানের কোনও বদলের সম্ভাবনাও নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবিতে গত বছরও চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তার প্রাপ্তিস্বীকার করা ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্র। এবারও একই পরিস্থিতি হবে বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন।
শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই হৃদ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদাপুর্ণ সেই দিন এখনও ভোলেনি উভয় পক্ষই।
যদিও বাংলাদেশে অপরাধী সাব্যস্ত ও মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সরকার চাপে আছে বলে জানা যায়। কিন্ত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে এমন সব ফাঁকফোঁকরও আছ যা প্রত্যাখ্যান করার সংস্থানও আছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে আছে, যাঁকে ফেরাতে বলা হবে, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি রাজনৈতিক হয়, তা খারিজ করা যায়। তবে কোন কোন অপরাধ রাজনৈতিক তাও বলা আছে।
কেন্দ্রীয় সরকার তা সবই ভাল ভাবে খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

Be the first to comment