রোজদিন ডেস্ক : বুধবার সকালেই উদ্ধার হয়েছিল জলপাইগুড়ির মালবাজারে বিএলও শান্তিমুনি এক্কার ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ ছিল৷ এসআইআর সংক্রান্ত কাজের চাপ নিতে পারছিলেন না তিনি। এরই মধ্যে ফের দুঃসংবাদ। সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন আরও এক বিএলও। তিনি কোন্নগর পুরসভার একটি বুথের দায়িত্বে ছিলেন। নাম তপতী বিশ্বাস। বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পরে যান বিএলও তপতী বিশ্বাস। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা জানান, সেরিব্রাল হয়েছে তাঁর। শরীরের বামদিক অবশ হয়ে গিয়েছে। আপাতত তিনি কোন্নগর পুরসভার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।উত্তরপাড়া বিধানসভার ২৭৯ নম্বর বুথ কোন্নগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএলওর দায়িত্ব পালন করছিলেন তপতী। তাঁর বাড়ি কোন্নগরের নবগ্রামে। বছর ষাটের তপতী বিশ্বাস একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী।
তার স্বামী প্রবীর বিশ্বাসের অভিযোগ, এসআইআর-এর ফর্ম বিলি থেকে ফেরত নেওয়া, কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছিল তপতী। প্রায় সারারাত ঘুম হচ্ছে না এত চাপ। ঘন ঘন ফোন আসছে।ফর্ম জমা করার জন্য।
ওই বুথে ১০১৬ জনের এনুমারেশান ফর্ম বিলি করা হয়েছে।এখনো ৪৫ জনের বাকি। ওর শরীর খারাপ ছিল, তাই বলেছিলাম বিএলও-র কাজ না করতে। কিন্তু ও বলল, না করলে চাকরি থাকবে না। তাই মানসিক চাপ নিয়েও কাজ করছিল। তাঁদের এক মেয়ে। তিনি ছোটখাট চাকরি করেন। প্রবীরবাবু শ্রীরামপুর হেস্টিংস জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন।বর্তমানে অবসর নিয়েছেন।তাই স্ত্রীর চাকরিই ভরসা। পরিবারের অভিযোগ, নেটের সমস্যার কারণে স্ক্যান করতে পারছিলেন না ফর্ম। আর তা না হলেই টেনশনে পরে যাচ্ছিলেন তপতী। সেই টেনশন থেকে সেরিব্রাল হয়ে যায়।

Be the first to comment