রোজদিন ডেস্ক : ‘কোনও ভয় পাবেন না, কেউ আপনাদের ওপর, আপনাদের সম্পত্তির ওপর হাত দিতে পারবে না। ওয়াকফ আইন আমরা করিনি, বিজেপি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে মানুষকে আশ্বাস দিলেন এই ভাষাতেই বুধবার মালদহের মাটি থেকে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মালদহে দাঁড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমি থাকতে এখানে কারও সম্পত্তিতে হাত দিতে পারবে না। সংশোধিত ওয়াকফ আইনে কোন সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি তা ঘোষণা করার অধিকার শুধুমাত্র ওয়াকফ বোর্ডের হাতে থাকবে না। জেলাশাসক বা সেই পদমর্যদার কোনও আধিকারিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এই আইন পাশ হতেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলার মুর্শিদাবাদও। তৃণমূল-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল এই আইনের বিরোধিতা করে। সুপ্রিম কোর্টে এই আইন নিয়ে মামলাও হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পোর্টেলে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে সংখ্যালঘু সমাজে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বলেন, এসআইআরে ফর্ম পূরণ করুন। নয়তো আপনাদের নাম কেটে দেবে। পরিযায়ী শ্রমিকদেরও বলছি ফর্ম পূরণ করুন। তারপরই বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, জোর করে যদি আপনারা জরুরি অবস্থা জারি করতে চান, মানুষ ক্ষমা করবে না। মনে রাখবেন আজ দিল্লিতে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, কাল কিন্তু থাকবেন না।
এসআইআর নিয়েও এদিন ফের মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাড়াহুড়ো করে এসআইআর চালু করা হয়েছে। এটা মানুষের চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চক্রান্ত, বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এসআইআর করেছেন অমিত শাহ। কিন্তু মনে রাখবেন, চালাকির দ্বারা মহৎ কাজ হয় না। রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, কথা দিচ্ছি, আপনাদের কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না। কারও নাম বাদ দিতে পারবে না। একদম ভয় পাবেন না। আমরা আছি। এর পাশাপাশি কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। অনেকে আমার কাছে জানতে চায়, কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে দেওয়ার পরেও কী ভাবে এত প্রকল্প চলছে? আমাদের এখন একটাই কর, জিএসটি। করের সব টাকা কেন্দ্র এখান থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রায় এক লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের থেকে পাই। এখন তো শুনছি সিগারেটের টাকাও কেটে নেবে। মনে রাখনেন, সামনে ভোট বলে আমি ভোট চাইতে আসিনি। এসেছি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আপনাদের সাহস দিতে।

Be the first to comment