রমিত সরকার, নদীয়া:
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের গুরুত্ব বোঝাতে এবং অর্থ ব্যবহারে সচেতন করে তুলতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল নদীয়ার আসাননগর মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলেজ। কলেজের পক্ষ থেকে দত্ত গ্রামের কাশিপুর ব্যাসবেরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে সম্প্রতি আয়োজন করা হয় এক বিশেষ শিক্ষামূলক কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ের মোট ৫০ জন পড়ুয়াকে একটি করে মাটির ভাণ্ডার, খাতা ও পেন তুলে দেওয়া হয়। শুধু সামগ্রী বিতরণেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকেনি—শিশুদের হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে কীভাবে নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করতে হয় এবং সেই সঞ্চয়ের হিসাব লিখে রাখতে হয়।
বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা থাকলেও, অভিভাবকদের দেওয়া সামান্য কিছু পয়সা অনেক সময় শিশুরা ক্ষতিকারক ফাস্ট ফুড কিনতে ব্যয় করে। এর ফলে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। সেই প্রবণতা থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই এই সঞ্চয়-শিক্ষার পরিকল্পনা। শিশুদের বোঝানো হয়েছে, অল্প অল্প করে জমালে তার মূল্য কতটা এবং সেই অর্থ ভবিষ্যতে কীভাবে কাজে লাগতে পারে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বছর শেষে শিশুদের মাটির ভাণ্ডারে জমা হওয়া অর্থ এবং খাতায় লেখা হিসাব মিলিয়ে দেখা হবে। সঠিকভাবে সঞ্চয় ও হিসাব রাখতে পারলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের কলেজের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারে উৎসাহিত করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের যোগ-বিয়োগের ধারণা আরও স্পষ্ট হবে, তেমনই গড়ে উঠবে সঞ্চয়ের মূল্যবোধ—যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে পথ দেখাবে।
এ প্রসঙ্গে আসাননগর মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ড. অশোক কুমার দাস বলেন, “প্রত্যেক মানুষের জীবনে সঞ্চয়ের প্রয়োজন আছে। এই অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে পারলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও সুরক্ষিত হয়।”
কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ পোদ্দার বলেন, “সঞ্চয় শুধু অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ সঞ্চয়ের শিক্ষাও ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকে গ্রহণ করুক—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
শিক্ষা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সাহা জানান, “গান্ধীজির বুনিয়াদি শিক্ষার আদর্শ অনুযায়ী একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বহু ধরনের শিক্ষা দেওয়াই আমাদের এই প্রচেষ্টার মূল ভাবনা। এখানে পড়ুয়ারা সঞ্চয়ের অর্থ বুঝছে, অঙ্কের প্রাথমিক ধারণা পাচ্ছে এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কিছু জমাতে শিখছে।”
এ দিনের আলোচনায় কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. চিরন্তন সরকার ও ড. রেজওয়ান আহমেদও অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
এই অভিনব উদ্যোগ কতটা সফল হয়, তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে। তবে শিক্ষার সঙ্গে জীবনের বাস্তব পাঠ মিলিয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

Be the first to comment