প্রতিবেদন: কিছুদিন আগে শীতের সকালে শুকনো মুড়ির সঙ্গে নলেন গুড়, অথবা নারকোল কোড়া দিয়ে মুড়ি ছিল অমৃত। পান্তা ভাতও ছিল সেই সময়ের একটি অতি জনপ্রিয় খাবার। কিন্তু আজ জ্যাম, জেলি পাঁউরুটির যুগে সেই সব খাবার হারিয়েই গেছে। এমনই আক্ষেপ ঝরে পড়ল রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর গলায়। নিউটাউনের জৈব হাটে জৈব চাষ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে এক আলোচনা সভায় শ্রোতাদের সতর্ক করলেন পুর্ণেন্দু বসু সহ অন্যান্য বক্তারা। যুগ পাল্টেছে। বদলাচ্ছে জীবনযাত্রা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গিয়েছে আমাদের ফুড হ্যাবিট। কয়েক প্রজন্ম আগে মানুষের কাছে যে খাবার ছিল উপাদেয় অথবা লোভনীয়, সেই খাবার দেখলে এখন দূর ছাই করে বর্তমান প্রজন্ম। পছন্দ তো দূর, মুখেই তুলতে চায় না।হ্যাম-বার্গার, কেক, পেস্ট্রি বা ফাস্ট ফুডের যুগে তাই হারিয়ে যাওয়া শীতের সকালের ফেনা ভাতের কথা মনে করালেন পূর্ণেন্দু বসু। সেই সঙ্গে পুরোপুরি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত খাবারের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। বলেন, জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা ফলমূল, শাকসবজি বা অন্যান্য খাবার খেলে রোগ বালাইও দূরে থাকে। নিউটাউনের জৈব হাটে ‘কী খাবো আর কী খাবো না’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তারা এই নিয়ে আলোচনা করেন এবং সকলকে সতর্ক করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, পূর্ণেন্দু বসু-সহ আরও অনেকে। পূর্ণেন্দু বসু বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা “সুস্থায়ী কৃষি পরিবার”-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে প্রচার করছি, এবং সবাইকে সচেতন করছি। এই আলোচনা সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে, কোনটা খাওয়া উচিত আর কোনটা খাওয়া উচিত নয়, সেই বিষয়ে। এদিন তিনি সবাইকে জৈব চাষের উপযোগিতা ও প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন করেন, যাতে তারা স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত হন।

Be the first to comment